৯৯ তেও জ্বলজ্বলে যে জীবন

old swimmer
মিয়েকো নাগাওকা

উইমেন চ্যাপ্টার: জীবনে ১৮ বার বিশ্ব রেকর্ড করেও ক্ষান্ত হননি জাপানের সাঁতারু মিয়েকো নাগাওকা। বয়সটাকেও তিনি তাঁর এই স্বপ্ন জয়ের পথে বাধা হিসেবে দেখছেন না। ৯৯ বছর বয়সেও তিনি স্বপ্ন দেখছেন আরও অনেক পদক পাওয়ার,  শুধু তাই নয়, আরও কিছু বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দেয়ার ব্যাপারেও তিনি বেশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সেই লক্ষ্যেই নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে নাগাওকা সাধারণ কোনো সাঁতারু নন, ছোটবেলা থেকে তিনি শেখেননি সাঁতার। শুরুই করেছেন আশি বছর বয়সে, আর গত ১৯ বছরে তিনি জিতে নিয়েছেন ১৮টি পদক, গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড। তিনি বলছিলেন, ‘আমি আমার বয়স নিয়ে ভাবি না, আমি বিশ্বাসই করি না যে, আমার বয়স ৯৯। যেকোনো চ্যালেঞ্জ আমি নিতে পারি বলেই বিশ্বাস করি’।

তাঁর কোচও শিক্ষার্থীর দাপুটেপনায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলছিলেন, ‘নাগাওকা এমনই এক ধরনের মানুষ, যারা জীবনে পরাজিত হতে জন্ম নেননি, মেনেও নেন না এবং সেইসাথে আরও বেশি স্বর্ণ পদক, আরও বেশি বিশ্ব রেকর্ডের জন্য সংকল্পবদ্ধ’।

মিয়েকো নাগাওকা জাপানের সেই বয়োজ্যেষ্ঠদের একজন, যারা শুধুমাত্র চ্যালেঞ্জই নেন না, দেশটিতে প্রবীণ হওয়ার সব ধ্যান-ধারণাও যারা পাল্টে দিচ্ছেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গড় আয়ুর (৮৪ বছর) দেশ জাপান। মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশেরই বয়স ৬৫, অথবা তারও বেশি। এটা অনেক বেশি। শতবর্ষীর সংখ্যা ৫৪ হাজারেরও বেশি। ২০১২ সালের পর এই সংখ্যা বেড়েছে শতকরা ছয় ভাগ। এই হারে বাড়তে থাকলে দেশটিতে আগামী ২০২০ সাল নাগাদ বড়দের ডায়াপার বৃদ্ধির হার ছোটদের তুলনায় বেশি হবে বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাজের ক্ষেত্রেও বেশ স্পর্শকাতর জাপানের বয়োজ্যেষ্ঠরা। জীবনধারণের জন্য সবাই কমবেশি কাজে সম্পৃক্ত থাকতে চান। বিষয়টা এমন যে, কাজ নাই তো, বেঁচে থাকার প্রয়োজনও থাকে না অনেকের কাছে। সবাই মিয়েকো নাগাওকার মতোন শারীরিকভাবে সক্ষম না হলেও সামাজিক বিভিন্ন কাজে তাদের সম্পৃক্ততা চোখে পড়ার মতোন।

চিয়ারলিডিং স্কোয়াড পম পম গ্র্যানিজ এর সদস্যদের বয়স গড়ে ৬৭ বছর। এর প্রতিষ্ঠাতা ৮১ বছর বয়সী ফুমি তাকিনো বলছিলেন, নিয়মমাফিক শারীরিক অনুশীলনই যথেষ্ট নয় এই ফিটনেস ধরে রাখার জন্য, এর জন্য চাই শতভাগ মানসিক শক্তি। দিন দিন বয়োজ্যেষ্ঠদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে জাপান সরকার অবসর গ্রহণের বয়স ৬০ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করতে বাধ্য হয়েছে।

লাঠি হাতে জবুথবু, থুরথুরে বুড়োবুড়ির ধারণা মুছে দিতে তৎপর নাগাওকার মতোন জাপানের বয়োজ্যেষ্ঠদের এই প্রজন্ম। থ্রি চিয়ার্স ফর নাগাওকা এন্ড দিজ এলডারলি পিপল!!!!

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.