নারী-পুরুষের সমতা: আরও অনেক পথ বাকি

women in economoyউইমেন চ্যাপ্টার: দেশে নারীদের অনেক অর্জন থাকা সত্ত্বেও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করে নারী-পুরুষে সমতা তৈরিতে আরও অনেক দূর যেতে হবে। একথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, দেশের বিচার বিভাগ বরাবরই জেন্ডার সংবেদনশীল। এ ক্ষেত্রে শুধু ভালো আইন বা নীতি থাকাই যথেষ্ট নয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগও করতে হবে।

তাছাড়া নারীদের ন্যায়বিচার পেতে নারী আইনজীবী এবং বিচারকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শনিবার নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি, ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ও বিভিন্ন সম্ভাবনা চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

জাতিসংঘের দাতা সংস্থা ইউএনডিপির ‘জাস্টিস সেক্টর ফ্যাসিলিটি প্রকল্পের’ সহায়তায় আইন মন্ত্রণালয় এ সম্মেলনের আয়োজন করে। বিচারব্যবস্থাসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করাই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।

সম্মেলনের প্রথম দিনে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে নারী নির্যাতনের মামলাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ এবং এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাঈমা হায়দার বলেন, বেশির ভাগ ধর্ষণ এবং গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ যে এজাহার দেয় তাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভাষা একই থাকে। এ ধরনের গৎবাঁধা এজাহার যাতে না লেখেন তার জন্য তিনি পুলিশ প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নাঈমা হায়দার নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় ক্যামেরা ট্রায়ালের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী নারীরা যাতে বিচার চাইতে আদালতে যেতে পারেন, সে ধরনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব এ এস এস এম জহিরুল হক বলেন, বিচার বিভাগের সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। একইভাবে কয়েক বছর আগেও বিচারক বা আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা কল্পনাও করা যেত না। এখন প্রশিক্ষণের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। সুষ্ঠু ন্যায়বিচারের জন্য আইনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

ইউএনডিপির উপ-দেশীয় পরিচালক নিক বেরেসফর্ড বলেন, নারী নির্যাতন উন্নত-অনুন্নত সব দেশের জন্যই বিরাট সমস্যা। সরকারের পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে, বিবাহিত নারীদের ৮৭ ভাগই জীবনের কোনো না-কোনো সময়ে স্বামীর মাধ্যমে কোনো না-কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরত্বারোপ করেন তিনি।

সম্মেলনের প্রথম দিনের বিভিন্ন পর্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ঢাকার বিচারক তানজিনা ইসমাইল, ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম বিকাশ কুমার সাহা, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক নাজমুল হক, অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দ আমিনুল ইসলাম প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.