দেবযানীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

Devjani 2উইমেন চ্যাপ্টার: ভারতের কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ভিসা জালিয়াতি ও গৃহকর্মীর বেতন সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গত শুক্রবার তাঁকে নতুন করে অভিযুক্ত করেছেন মার্কিন গ্র্যান্ড জুরি। এরপর ওই পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে দেবযানীর সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এই কূটনীতিক।
মার্কিন অ্যাটর্নি প্রিত ভারারে শুক্রবার জানান, মার্কিন গ্র্যান্ড জুরি দেবযানীকে দুটি অপরাধে অভিযুক্ত করেছেন।

একই অভিযোগে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত কূটনীতিক দায়মুক্তি থাকার কারণ দেখিয়ে অভিযোগ গঠনের আদেশ খারিজ করে বিচার থেকে রেহাই দেয় দেবযানীকে।
দেবযানীকে বুধবার মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সময় বিচারক সিরা এ সেইন্ডলিন বলেন, তিনি কূটনীতিক হিসেবে দেবযানীর দায়মুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে আদালত বলেন, দেবযানী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের বাইরে যদি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে কৌঁসুলিরা তাঁর বিরুদ্ধে আবার মামলা করতে পারবেন।

দেবযানীর বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা হওয়ার ঘটনাকে নিজেদের প্রতি মার্কিন সতর্কবার্তা বলে মনে করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর নতুন মামলার বিষয়ে দেবযানীর মার্কিন আইনজীবী ড্যানিয়েল আরসাক তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। তবে শুরু থেকেই নিজের মক্কেলের বিরুদ্ধে সব ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন তিনি। দেবযানীও কোনো ভুল করেননি বলে দাবি করছেন।

গৃহকর্মীর ভিসা আবেদনে মজুরি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়া এবং তাকে চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক না দিয়ে বেশি কাজ করানোর অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাড়েকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কিন্তু তাকে প্রকাশ্যে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া, বিবস্ত্র করে দেহ তল্লাশি এবং মাদক কারবারি ও যৌনকর্মীদের সঙ্গে এক সেলে রাখার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় ভারত। নয়া দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনীতিকদের সুযোগ সুবিধা কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি দেবযানীকে অপমান করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.