দিল্লি ধর্ষণ মামলায় ২ জনের ফাঁসির আদেশ স্থগিত

Delhi Rapistsউইমেন চ্যাপ্টার: বহুল আলোচিত নির্ভয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে দুজনের ফাঁসির আদেশ আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ওইদিন আপিলের শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

শনিবার অভিযুক্ত দুজনের পক্ষ থেকে তাদের আইনজীবীরা আপিল করা হলে শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট মুকেশ সিং এবং পবন গুপ্তের ফাঁসির আদেশ স্থগিত রাখার আদেশ দেয়। আইনজীবীরা তাদের আপিলে বলেন, দিল্লি হাইকোর্টে তাদের মক্কেলদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। অভিযুক্ত বাকি দুজনও আপিল করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গতবছর সেপ্টেম্বরে চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট চারজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশই বহাল রাখে।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে চলন্ত বাসে ছয়জনে মিলে গণধর্ষণের দুই সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেডিকেলে পড়া ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণী মারা যায়। ওই সময় এই ঘটনায় ভারতজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় তুলে। সেই বিক্ষোভের জের ধরে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় সরকারের ওপর মহল।

বিবিসি বাংলার এক খবরে বলা হয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে ওই গণধর্ষণের ঘটনাকে ‘বিরলতম’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সেকারণেই চারজন দোষীকে নিম্ন আদালতের দেয়া ফাঁসির রায়  বহাল রাখা হল।
পঞ্চম অভিযুক্ত মামলা চলাকালে জেলে মারা যান, আর অন্য এক অভিযুক্ত নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে প্রমাণ করতে সফল হওয়ায় তার শিশু-কিশোর আদালতে বিচারের পরে তিনবছরের জেল হয়েছে।

রায়ের পরে ওই ধর্ষিতার বাবা সাংবাদিকদের জানান, “ আমি বিশ্বাস করতে পারিনি এই সাজা দেবে আদালত। তবে মনে মনে এটাই চাইতাম কারণ, যে জঘণ্য অপরাধ করেছে ওই লোকেরা – তাতে ফাঁসি-ই হওয়া উচিত তাদের। এখন যদি সুপ্রীম কোর্টও এই একই নির্দেশ বহাল রাখে, তাহলেই শান্তি পাব।“

দোষীদের আইনজীবী এ কে সিং অবশ্য বলছেন, এই মামলার রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল – ভোটের ঠিক আগেই তাই এই রায় দেওয়া হল। মি. সিংয়ের কথায়, “এই মামলার ফলে দিল্লির সরকার বদলে গিয়েছিল – তাই সবাই এই মামলাটাকে অত্যন্ত ভয় পায় আবার এই মামলার রায়ের থেকে লাভ-ও কুড়োতে চায়। তাই পুরো রায় হাতে পেলে নিশ্চই সুপ্রীম কোর্টে আপীল করবে আমার মক্কেলরা।“

২০১২ সালের ১৬ডিসেম্বর এক বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে বাড়ী ফেরার পথে একটি বাসে উঠেছিলেন ওই তরুণী। কিছুটা ফাঁকা জায়গায় বাসটি পৌঁছানোর পর ওই তরুণী ও তাঁর বন্ধুকে প্রচণ্ড মারধর করে ও তারপরে ছয়জনে মিলে গণধর্ষণ করে মেয়েটিকে। শুধু তাই নয়, মেয়েটির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে নগ্ন অবস্থায় তাঁদের দুজনকে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয় ও বাসচাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়।

দিল্লির বিশিষ্ট চিকিৎসকদের সবরকম চেষ্টার পরে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়ার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। মেয়েটি ওই অবস্থাতেই মারা যায়। এই ঘটনা তখন নাড়িয়ে দিয়েছিল সব মানুষের মন। ধর্ষণ তথা মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার জের ধরে ভারতে ধর্ষণ প্রতিরোধে কড়া আইন আনা হয়।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.