গণমাধ্যমে ২৫ ভাগ নারী নিয়োগের দাবি

women journalistউইমেন চ্যাপ্টার: গণমাধ্যমে নারীদের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেইসাথে প্রতিটি গণমাধ্যম হাউজে শতকরা ২৫ ভাগ নারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছে নারী সাংবাদিকদের একটি অংশ।

তারা বলেছেন, ‘এতোদিন পর্যন্ত আমরা গণমাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির দাবি করে এসেছি, কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সত্যিকার অর্থেই নারীদের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী উপস্থিতি জরুরি। সেইসাথে নারী সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্বেও নারীর অংশগ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র আয়োজিত ‘সাংবাদিকদের নেতৃত্বে নারী সাংবাদিকদের অবস্থান’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই দাবি জানান নারী সাংবাদিকরা।

সেমিনারের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু নারী সাংবাদিকদের এসব দাবি পূরণে ‘চেষ্টা ও তদবির’ চালাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন

একইসঙ্গে সাংবাদিকদের ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্ব মনোনয়নের সময় নারীদের জন্য অন্তত ৩০ শতাংশ রাখার সুপারিশ করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের বক্তব্যে গণমাধ্যমে নারীদের নিয়োগে প্রতিবন্ধকতা, বৈষম্য, সংস্কৃতি ও পরিবারের বাধাসহ নানা দিক উঠে আসে।

নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা উইমেন চ্যাপ্টারকে বলেন, বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে কোথাও নারীরা অযোগ্য নয়। তারা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ প্রতিনিয়তই দিয়ে চলেছেন। কিন্তু নিয়োগের ক্ষেত্রে এখনও স্বাভাবিক নন মালিক পক্ষ। কিন্তু আরও বেশি সুযোগ না দেয়ায় নারী সাংবাদিকরা তাদের মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারছেন না। আর সেকারণেই এখন গণমাধ্যমগুলোতে ২৫ শতাংশ নারী নিয়োগ দেয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি ‘চেষ্টা ও তদবির’ চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বৈষম্য দূর করতে নারীদের লড়াই দীর্ঘস্থায়ী ও কষ্টকর। নারী ও পুরুষকে একসঙ্গে এ লড়াই চালাতে হবে।”

ইনুর মতে, বৈষম্য দূর করতে নারীদের দুই ধরনের লড়াই। প্রথম লড়াই কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীতানার বিরুদ্ধে। আর দ্বিতীয়ত সমাজের ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।

“এ দুই লড়াই একসাথে চালাতে পারলেই লিঙ্গ বৈষম্য দূর হবে।”

নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি দিল মনোয়ারা মনু, আর্টিকেল নাইনটিনের দক্ষিণ এশিয়া কান্ট্রি ডিরেক্টর তাহমিনা রহমানসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইংরেজি দৈনিক ইনডিপেনডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি শাহনাজ বেগম। সেমিনার পরিচালনা করেন নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের শান্তা মারিয়া।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.