এক কক্ষে ৬৫ শিশুর ঘুম!!

Childrenহায়দার আলী: মঙ্গলবার দুপুর ১ টা ৩৫ মিনিট। লম্বায় ১৬ ফুট আর পাশে ১৩ ফুট আয়তনের এমন একটি কক্ষে গাদাগাদি করে আছে ৬৫ জন শিশু। তাদের সবার বয়সই ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে। দুপুরে খাওয়ার পর্ব শেষে চলছে ঘুমের প্রস্তুতি। চারটি লাইনে সারিবদ্ধভাবে মেঝেতে শুয়ে পড়ে শিশুরা। অল্প সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে প্রতিটি শিশু। একটি শিশুর সঙ্গে আরেক শিশুর লেগে আছে গা। তাদের শরীর একটু নড়াচড়া কিংবা এদিক-সেদিক করার উপায় কম। ওই কোলাহলপূর্ণ কক্ষটিতে মুহুর্তেই পিনপতন নীরবতা।

একটি বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে সরেজমিন গিয়ে এমনই দৃশ্য দেখে বিস্মত হই। চোখের কোনে পানি এসে যায়, যাদের থাকার কথা মায়ের সঙ্গে, ঘুমানোর কথা ওদের মায়ের গলা ধরে। সেই নিষ্পাপ এই শিশুরা মায়ের আদর থেকে দিনের বেশিরভাগ সময় থাকে অনেক দূরে। জেলখানার কয়েদির মতো গাদাগাদি করে ঘুমাতে হচ্ছে তাদের। ৫০ টাকার বিনিময়ে একটি শিশুর সারা মাস দেখাশোনা করছে সংস্থাটি।

এখানের প্রতিটি শিশুই অতিদরিদ্র কর্মজীবী মায়েদের সন্তান। যেসব মায়ের কাজ করা ছাড়া বিকল্প নেই, শিশুদের দেখভালের কেউ নেই, সেইসব মায়েরা শিশুদের এখানে রেখে কাজে চলে যান, হয়তো এই ৫০টাকাতেই তাদের নিশ্চিন্ত হতে হয় শিশুদের নিরাপত্তার দু:শ্চিন্তা থেকে।

এইসব শিশুদের দিকে তাকিয়ে ভাবছি, আমাদের এই গরীব দেশে লাখো কোটিপতি আছে, হাজার কোটি টাকার মালিকের অভাব নেই। প্রতিদিন ফুর্তি করে লাখ লাখ টাকা খরচ করছে। সেই তারা দেশের এমন শিশুদের দায়িত্ব কি নিতে পারে না? পথে ঘাটে হাজারো অসহায় শিশুর কান্না কি একটু স্পর্শ করে না? কি বিচিত্র এই দেশ! তবুও সাধুবাদ জানাই এই বেসরকারি সংস্থাটিকে, তাদের কল্যাণে ৫০ টাকার বিনিময়ে সারামাস নিরাপদে থাকছে সেই অভাগি মায়ের প্রিয় মুখগুলো।

সংবাদকর্মী

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.