নবজাতকের ক্ষেত্রে রক্তবাহিত বীজ দূষণের আশংকা

ma o sisu উইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক (জুন ৭): প্রতি বছর প্রায় তিন কোটি নবজাতক শিশু রক্ষবাহিত বীজ দূষণের শিকার হয় এবং এর মধ্যে ১০ থেকে ২০ লাখ শিশু শেষপর্যন্ত মারা যায়। বাংলাদেশে পাঁচ বছরের নিচের বয়সী যেসব শিশু মারা যায়, তার অর্ধেকেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয় জীবনের প্রথম মাসেই এবং এসব মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঘটে রক্তবাহিত বীজ দূষণের কারণে।

নবজাত শিশুর শরীরে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ এবং জ্বরের উপস্থিতিই নবজাতকের রক্তবাহিত বীজ দূষণের অন্যতম লক্ষণ। এটি সারাবিশ্বেই বড় ধরনের একটি স্বাস্থ্য সমস্যা।
নবজাতক শিশুর রক্তবাহিত বীজ দূষণের কারণ কি কি?

নবজাতক শিশুর রক্তবাহিত বীজ দূষণ হয় সংক্রমণের কারণে, যা মায়ের গর্ভে থাকার সময় অথবা বাইরের পরিবেশ থেকেও শিশুটি ধারণ করতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নবজাতক শিশু সিফিলিসের মতোন সংক্রমণের শিকার হতে পারে তাদের মায়ের কাছ থেকে। অন্যদিকে শিশুটি যখন অস্বাস্থ্যকর একটি পরিবেশে বাস করে অথবা তাকে দেখভালকারী যখন ঠিকমতো হাত পরিস্কার করে না তখন স্বভাবতই ঝুঁকির মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। সদ্য জন্মগ্রহণকারী শিশু তার নাজুক বয়স এবং দুর্বল প্রতিরোধক শক্তির কারণেও সংক্রমণের ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

নবজাতক শিশুর রক্তবাহিত বীজ দূষণ ঠেকাতে কি করা যেতে পারে?
প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ, যেমন হাত ধোয়া এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসম্মত অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে নবজাত শিশুর অসুস্থতা বিশেষভাবে সনাক্ত এবং তার যথাযথ চিকিৎসা করা। অধিকাংশ নবজাত শিশুর সংক্রমণের শুরু ঘর থেকে হয় বলে প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা বেশ জটিল হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই উপযুক্ত চিকিৎসাও পাওয়া যায় না। নবজাত শিশুর মধ্যে বিপদের চিহ্ন দেখা মাত্র, দ্রুত অসুস্থতার কারণ সনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সময়মতো সেবাযত্ন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে চিকিৎসার বিষয়টি চিকিৎসা কৌশলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

মায়ের গর্ভাবস্থাতেই টিটেনাম টক্সোইড জাতীয় টীকা নেওয়া, পরীক্ষা করা এবং সিফিলিস জাতীয় অন্যান্য সংক্রমণের চিকিৎসার মাধ্যমে নবজাতক শিশুর রক্তবাহিত বীজ দূষণ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্ভব। শিশুর জন্মের সময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাটাও খুব জরুরি। এর মধ্যে ধাত্রীর হাত পরিস্কার থাকা, নাড়ি কাটতে ও বাঁধতে পরিস্কার ও জীবাণুমুক্ত য্ত্রপাতি ব্যবহার করা এবং জন্মের সাথে সাথেই মায়ের শাল দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকখানিই কমিয়ে আনা সম্ভব।
অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে শিশুর জন্মের পর মা ও দেখভালকারীর হাত পরিস্কার রাখা, বিশেষভাবে দুধ খাওয়ানো, শিশুর নাভি পরিস্কার ও শুষ্ক রাখা এবং সর্বোপরি সম্ভাব্য সংক্রমণ সম্পর্কে সময়মতো সনাক্ত করা এবং সঠিক অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা।
বাংলাদেশ নবজাতক শিশুর রক্তবাহিত বীজ দূষণ ঠেকাতে যারা কাজ করছে

নবজাতক শিশুর গুরুত্বপূর্ণ, উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন তৎপরতাগুলো যাতে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে ইউএসএইড এবং এমসিএইচআইপি। যেমন, নবজাতক শিশুর জন্মের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এবং প্রথম সপ্তাহে নবজাতকের সংক্রমণ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্বাস্থ্য কর্মীদের পরিদর্শনে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে ইউএসএইড এবং এমসিএইচআইপি।
উদাহরণস্বরূপ, প্রসব এবং নবজাতকের যত্নের সময় সংক্রমণ প্রতিরোধে হাত ধোয়ার বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রায় এক লাখ ২২ হাজার ৪২১ জন নারীর মধ্যে। ইউএসএইড এবং এমসিএইচআইপি উভয়ই ইউনিলিভারের লাইফবয় এর ‘জীবিত নবজাতক শিশুর জন্য হাত ধোয়া’ শীর্ষক কর্মসূচির সরকারি-বেসরকারি জোটের অংশ। এই অংশীদারিত্ব হচ্ছে নতুন মা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার বিষয়টি গ্রহণ ও অনুশীলনে সহায়তা করার লক্ষ্যে একটি আচরণ পরিবর্তনমূলক কর্মসূচি। ইউএসএইড এর নবজাতক যত্ন সংক্রান্ত অন্যান্য কর্মসূচিতেও এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(সংগৃহীত)

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.