যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত প্রশ্নে মতভেদ

Abortionউইমেন চ্যাপ্টার: গর্ভপাতের প্রশ্ন এলেই রাজনীতিবিদ এবং দেশের অন্যান্য মানুষের চিন্তা-চেতনায় চিড় ধরে, বলা ভাল, দুইভাবে দেখে বিষয়টাকে। যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন বছর ধরেই এ নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া ঐতিহাসিক রায়ের ৪১ বছর পর দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন জনগণ বিশ্বাস করে যে, গর্ভপাতের সিদ্ধান্তটি হওয়া উচিত একজন নারী, তার পরিবার এবং তার চিকিৎসকের মাধ্যমে। অথচ দেশের নির্বাচিতদের অধিকাংশই বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখেন। কংগ্রেসের শতকরা ৪০ ভাগ সদস্য, গভর্নরদের এক তৃতীয়াংশ এবং আইনপ্রণেতাদের এক চতুর্থাংশ মনে করেন, গর্ভপাত প্রশ্নে আইনী অধিকার থাকা প্রয়োজন।

গত সপ্তাহে হাফিংটন পোস্ট এবং নারাল প্রো চয়েস আমেরিকা পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। অর্ধেকেরও বেশি নির্বাচিত কর্মকর্তা আবার আইনী গর্ভপাতের ঘোরবিরোধিতা করেছেন। এদের সংখ্যা মার্কিনিদের শতকরা ১৪ ভাগ মাত্র। আইনপ্রণেতাদের একটি ছোট অংশের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র।

এর মধ্যেই বিশ্বব্যাপী আজ পালিত হচ্ছে নিরাপদ ও আইনী গর্ভপাতে নারীর অধিকার আদায়ের ৪১তম বার্ষিকী।

দীর্ঘ বছর ধরে মার্কিন জনগণ গর্ভপাতের আদর্শগত দ্বন্দ্বে বহুধা বিভক্ত। নতুন জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৪৮ ভাগ মানুষ মনে করেন, গর্ভপাত হওয়া উচিত স্বাভাবিক নিয়মেই, অথবা সবসময়ই আইনী উপায়ে, ৪৭ ভাগ মনে করেন, এটা হওয়া উচিত স্বাভাবিকভাবে অথবা সবসময়ই বেআইনীভাবে। আবার যারা বেআইনী ভাবেন, তারাও মনে করেন শতকরা ৩৩ ভাগ ক্ষেত্রে এটা হওয়া উচিত আইনী উপায়েই।

নতুন জরিপে এটাও উঠে এসেছে যে, মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ ভাবেন, রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে এই বিষয়টির সুরাহা হওয়া উচিত না, বরং নারীরই উচিত এই সিদ্ধান্ত নেয়া। ৬৪ ভাগ বলেছেন, সিদ্ধান্ত আসতে হবে নারী ও তার চিকিৎসকের মধ্য থেকে, ২৪ ভাগ বলেছেন, সরকারের অধিকার আছে গর্ভপাত বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করার, ৩৫ ভাগ বরেছেন, গর্ভপাত ইস্যুতে কংগ্রেস যে নিষেধাজ্ঞা আরোপে কংগ্রেসের পদক্ষেপকে তারা সমর্থন দেবেন।

হাফিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে নারাল এর প্রেসিডেন্ট ইলিসে হগ বলেছেন, গর্ভপাত প্রশ্নে জনগণ তাদের নৈতিক বিশ্বাস এবং সরকার ও রাজনীতিবিদদের হেলথ কেয়ার সিদ্ধান্তের মধ্যে একটা সুক্ষ্ম ফারাক টানতে সক্ষম হয়েছে।‘আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতাকে মূল্য দেই, এর মানে হলো যে, নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে তোমার লংঘনের প্রয়োজন নেই, আবার তোমার অন্যদেরও বলা উচিত না, তাদের কি করা উচিত’।

আইনপ্রণেতাদের প্রজনন স্বাস্থ্য প্রশ্নে রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে গত তিন বছরে দেশটিতে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। গত এক দশকের তুলনায় ২০১০ সালের পর থেকে গর্ভপাতের ওপর অনেক বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকানরা আরও একধাপ এগিয়ে। ২০১৪ সালের সংসদ অধিবেশনে তারা গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে এখনও অনড়।

 

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.