দ্রুত নতুন নির্বাচনের দাবি জানালেন খালেদা

Khaleda 7উইমেন চ্যাপ্টার: বর্তমান সরকার ‘অস্ত্রের জোরে’ ক্ষমতায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন  খালেদা জিয়া। পাশাপাশি তিনি  ‘আলোচনার মাধ্যমে’ অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আজ সোমবার রাজধানীর সোহরাউয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির গণসমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান। গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে যে হামলা হয়েছে, তার জন্য তিনি সরকারকেই দায়ী করেছেন।

তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নয়, অস্ত্রের জোরে ক্ষমতায় আছে। তিনি সরকারকে ‘ক্ষমতার মোহ’ ছেড়ে আলোচনায় বসে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান।
নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌথ বাহিনী অভিযানের নামে নির্যাতন চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। সাতক্ষীরার যৌথ বাহিনীর অভিযানে ‘আদৌ যৌথ বাহিনী’ ছিল কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

বেলা দুইটার দিকে শুরু হওয়া সমাবেশে খালেদা জিয়া উপস্থিত হন সোয়া চারটার দিকে। সাড়ে চারটা থেকে এক ঘণ্টার বেশি সময় তিনি বক্তব্য দেন। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

বক্তব্যের শুরুতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ উল্লেখ করে তাতে অংশ না নেওয়ায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো গায়ের জোরে সব করা যায় না। নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসবের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে এই সরকার কলঙ্কিত সরকার। এই সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না।

দুপুর ১২টার পর থেকেই ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসতে থাকেন নেতা-কর্মীরা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্বপাশের অংশের মাঝামাঝি জায়গায় তৈরি করা হয় উত্তরমুখী মঞ্চ। মঞ্চের সামনে থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ফটক পর্যন্ত ও এর আশপাশে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি চোখে পড়ে।

এক ঘণ্টার বক্তব্যে খালেদা জিয়া একাধিকবার সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আসুন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে দেশের মানুষকে শান্তি দিই। দেশপ্রেমিক হয়ে থাকলে জুলুম না চালিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেবেন।’

খালেদা জিয়া বলেন, বিদেশিরাও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন গ্রহণ করেনি। তাই বিদেশি বিনিয়োগও আসবে না। সাহায্যও কমে যাবে।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, সরকার দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর জন্য সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত সরকারি দলের লোকজন। তারা ধরা পড়লেও প্রচার করা হচ্ছে না। সরকার ব্যর্থ হচ্ছে তাদের নিরাপত্তা দিতে।

সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন, সন্দেহ আছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন কীভাবে মানুষকে নির্যাতন করেছে। আদৌ যৌথ বাহিনীর ছিল কি না, সেটা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ আছে। বাংলাদেশের পুলিশ ও অন্য বাহিনী এত নিষ্ঠুর হবে, এটা নিয়ে মানুষের সন্দেহ রয়েছে। তাদের কাজকর্ম দেখে মনে হয় না সার্বভৌমত্ব অটুট আছে। ৪২ বছর পর আবার স্বাধীনতা হারাতে বসেছি। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা যাঁরা বেঁচে আছেন তাঁরা তো এ দৃশ্য দেখার জন্য বেঁচে নেই।’

নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচন করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, এই আজ্ঞাবহ, মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না, হবে না। এই নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা নেই।

খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার যে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, এর প্রমাণ আরেকবার দিল। ১৯৭৫ সালে একদল গঠন করে বাকশাল কায়েম করেছিল। সরকারি ব্যবস্থাপনায় চারটি সংবাদপত্র রেখে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘ইনকিলাব বন্ধ করলেন কেন? তারা পত্রিকায় যেটি ছাপিয়েছে সেটা আগেই ওয়েবসাইট, ফেসবুক ও অনলাইনে এসেছে। সঠিক ব্যাখ্যা না দিয়ে কাগজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এর আগে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, আমার দেশ ও এর নির্দোষ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছেন। এগুলো করা থেকে পিছিয়ে না এলে অতি শিগগিরই এ দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমতা থেকে নামাবে।’

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা নতুন ভোটার। তোমরা ভোট দিতে পারলে না। এ অবৈধ সরকার আসলে যুবকদের জন্য নয়। নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য। আবার লুটপাট করার জন্য ক্ষমতায় বসেছে। হয়তো দেশটার অস্তিত্ব রাখবে না। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতার বাইরে ছিল তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছে, ব্যাংকে আগুন দিয়েছে। গানপাউডার দিয়ে মানুষ মেরেছিল। ১৫ দিন চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সঙ্গে বোঝাপড়ার (আন্ডারস্ট্যাডিং) মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে। বহুবার সংবিধান সংশোধন করেছে। এখন বলছে “সংবিধান থেকে একচুলও নড়ব না”। একচুল কেন? বহু হাত নড়ে গেছেন। এখন আর এসব কথা মানায় না। শান্তি, স্বস্তির ধারা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।’

আগে অনুমতি না দিয়ে গতকাল রাতে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ায় প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া।

আওয়ামী লীগের ব্যাপারে অভিযোগ করে বলেন, ‘একদলীয় ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে তারা বিশ্বাস করে না।  আমাদের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে? তাঁদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় স্বার্থের বাইরে অন্য কোনো চিন্তা করতে পারেন না। বিএনপি ছাড়া অন্য দলের নেতাদের বন্দী করে রাখা হয়েছে।’ তিনি রাজবন্দীদের মুক্তি দাবি করেন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.