জন্মকালীন শ্বাসরোধ বা Asphyxia শিশুমৃত্যুর কারণ

Asphyxiaউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক (জুন ৭): জন্মকালীন শ্বাসরোধের কারণে প্রতিবছর অনেক শিশুর মৃত্যু হয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে শতকরা ২১ ভাগ নবজাতক শিশুর মৃত্যু ঘটে জন্মকালীন শ্বাসরোধের ফলে। অন্যদিকে, সারাবিশ্বে ১০ লাখেরও বেশি নবজাতক জন্মকালীন শ্বাসরোধ উৎরে গেলেও অধিকাংশের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি সেরেব্রাল পালসি, মানসিক অপূর্ণতা এবং কথা বলা, শোনা, দেখা ও শিখন প্রক্রিয়ার অক্ষমতা দেখা দেয়।
মূলত, প্রসবকালীন সেবাদানকারীর অসাবধানতাই এই মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জন্মকালীন শ্বাসরোধ নবজাতক মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। জন্মের সময়ে শতকরা প্রায় ১০ ভাগ শিশুরই শ্বাস নেওয়ার জন্য অন্যের সামান্য সহায়তার প্রয়োজন হয়। তবে শতকরা প্রায় এক ভাগের ক্ষেত্রে এই সহায়তার প্রয়োজন হয় অনেক বেশি। এ অবস্থাকে প্রতিহত এবং পরিত্রাণের জন্য নানান উপায়ের কথা জানা থাকা সত্ত্বেও প্রতি বছরই প্রায় ১০ লাখ নবজাতক মারা যাচ্ছে জন্মকালীন শ্বাসরোধের কারণে, আরও ১০ লাখের মৃত্যু হয় ভ্রুণ অবস্থাতেই।

কি কারণে জন্মকালীন শ্বাসরোধ হয়?

জন্মকালীন শ্বাসরোধ হওয়ার কারণ হচ্ছে মায়ের স্বাস্থ্য অথবা প্রসবের সময় জটিলতা। এ ধরনের সমস্যা যদিও নিরাময়যোগ্য, তথাপি গর্ভাবস্থায়, প্রসব ব্যথা উঠার পর এবং সন্তান জন্মদানের সময় সম্ভাব্য জটিলতাগুলো চিহ্নিত করতে এবং নবজাতকের উপর জীবনরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি একান্ত জরুরি।

জন্মকালীন শ্বাসরোধ থেকে রক্ষায় কি করা যেতে পারে?

মৌলিক এবং কার্যকর কৌশলের মাধ্যমে জন্মকালীন শ্বাসরোধে আক্রান্ত অধিকাংশ নবজাতককে বাঁচানো সম্ভব। তাৎক্ষণিকভাবে নবজাতক সম্পর্কে একটা অনুমান করে ফেলা, তাকে উষ্ণ ও শুষ্ক রাখা এবং স্পর্শের মাধ্যমে একটা অনুভূতি জাগানো হচ্ছে শ্বাসরোধের ক্ষেত্রে প্রথম প্রতিক্রিয়া। নবজাতকদের একটি ক্ষুদ্র অংশ, অন্যদিকে জন্মের সময় যারা শ্বাস নেয় না, কৃত্রিম উপায়ে তাদেরকে নি:শ্বাস নিতে সাহায্যের জন্য প্রয়োজন একটি ব্যাগ ও মাস্ক। উন্নয়নশীল বিশ্বে জন্মকালীন শ্বাসরোধে আক্রান্ত অনেক শিশুই বেঁচে থাকার কোন পরিচর্যা পায় না। এর কারণ হচ্ছে, যেসব দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নবজাতকের নি:শ্বাস ফিরিয়ে আনার উপায় জানেন এবং যাদের কাছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে, তাদের কাছে পৌঁছানোর মতো সামর্থ্যই নেই অধিকাংশ পরিবারের। সুবিধাসম্পন্ন জন্ম প্রক্রিয়ার উন্নয়ন প্রসবের সময় একজন দক্ষ ধাত্রীর (এসবিএ) সহায়তা নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশে এ নিয়ে যারা কাজ করছে

হেল্পিং বেবিজ ব্রেথ (এইচবিবি) উদ্যোগের মাধ্যমে ইউএসএইড এবং এমসিএইচআইপি নবজাতক শ্বাসরোধের সাথে লড়াই করে যাচ্ছে। এইচবিবি উদ্যোগ হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউএসএইড, এমসিএইচআইপি এবং বিশ্বের বহুসংখ্যক স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতায় আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস (এএপি) এর একটি কর্মসূচি। বাংলাদেশে ২০ হাজার ধাত্রীকে নবজাতকের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতাসহ প্রশিক্ষণ দেওয়াই এইচবিবির উদ্দেশ্য। অন্তত একজন ব্যক্তিকে তৈরি করা, যিনি প্রতিটি শিশুর জন্মের সময় নবজাতক রক্ষায় দক্ষ।

বাংলাদেশে এইচবিবি উদ্যোগ এরই মধ্যে ২৪টি জেলায় প্রায় ৭,২০০ জন ধাত্রীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসক, সেবিকা, প্যারামেডিকস এবং দক্ষ ধাত্রীরাও রয়েছেন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.