সংরক্ষিত নারী আসনে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু

Sangsadউইমেন চ্যাপ্টার: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৩৬টি আসনের বিপরীতে মনোনয়ন পেতে আবেদন করেছেন ৮২২ জন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন চিত্রনায়িকা, শিল্পী এবং অন্যান্য মাধ্যমের অনেক সেলিব্রেটিও।

আজ রোববার আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবনে আগ্রহীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন,  সেই পরীক্ষা আমাদের দিতে হবে। সাধারণত একজন একজন করে ইন্টারভিউ নেওয়ার নিয়ম। কিন্তু প্রার্থী ৮২২ জন। এক মিনিট করে সাক্ষাত্কার নিলেও অনেক সময় লাগবে। তাই গার্ডেন পার্টি দিলাম। সবাইকে মনোনয়ন দিতে পারব না। তবে শীতের পিঠা খাওয়াতে পারবো।’

বিকাল ৪টা ৭ মিনিটে গণভনের দক্ষিণ দিকের লনে অনুষ্ঠানস্থলে এসে ভিড় দেখেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার শরণ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলে ওঠেন, ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী/ আমারই সোনার ধানে গিয়াছে ভরি’। এরপর সহাস্যে বলেন, “এটা আবৃতি করে অনুষ্ঠান শুরু করা ছাড়া উপায় ছিল না। কারণ আমাদের ভাগে ৩৬টি সিট। আবেদন পেয়েছি ৮২২টি। আমি খুব আনন্দিত। এত উৎসাহ উদ্দীপনা… এটাই বড় কথা।

“নারী জাগরণ বলতে যা বোঝায় এখানে তাই ঘটে গেছে। গণভবনের মাঠ সত্যিই ধন্য হয়ে গেছে। সবাইকে খুশি করতে পারব না। এই যে নারী জাগরণ এতে আমি আনন্দিত।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন তিনি প্রথম দফায় সরকার গঠন করেছিলেন, তখন দায়িত্বশীল পদে নারীর অবস্থান ছিল না বললেই চলে।  ‘নারীর ক্ষমতায়নের কথা মুখে বললে হয় না,  এটা অর্জন করে নিতে হয়। নারীদের কোথাও জায়গা ছিল না। আমরা প্রথম মহিলা স্পিকারসহ সব জায়গায় যেন আমাদের বোনদের জন্য স্থান থাকে, সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’

তবে সংরক্ষিত আসন নিয়ে বরাবরের মতোই এবারও প্রশ্ন উঠেছে যে, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের বাইরে এই সংরক্ষিত ৫০ টি আসনের সদস্যরা আইন প্রণয়নে আসলে কতটা ভূমিকা রাখতে পারছেন? তাছাড়া দেশটির প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদেই যখন নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তখন নারীদের জন্য এরকম সংরক্ষিত আসন রাখাটাই বা কতটা যৌক্তিক?

এ বছর যারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবার জন্য আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে অভিনেত্রী ফাল্গুনী হামিদ, রোকেয়া প্রাচী, সুজাতা, শমী কায়সার, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাফিস ইকবালের স্ত্রী ঈশিতা তাসনিমও রয়েছেন। গতবারের সংসদ সদস্য অভিনেত্রী তারানা হালিম এবারও আবেদন করেছেন। গতবারের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হওয়া শিরীন শারমিন চৌধুরী এবারও আবেদন ফরম জমা দিয়েছেন।

তবে গতবারের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ এবার সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

গত সংসদের বিরোধী দল বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি অবশ্য বলছেন, সংরক্ষিত আসনের নারীদের খুব বেশি কিছু করার থাকে না।

তিনি মনে করেন, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এই ব্যবস্থাটিই আর থাকা উচিত না।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজনের বদিউল আলম মজুমদার অবশ্য বলছ্নে, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সংসদে এই সংরক্ষিত ব্যবস্থাটি থাকা উচিত। কিন্তু এখন যেভাবে মূলত দলীয় প্রধানের একক সিদ্ধান্তেই প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়, সেই পদ্ধতিটি পরিবর্তন করা দরকার।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.