দিল্লিতে ধর্ষণের শিকার বিদেশি পর্যটক

Stop Violence 2উইমেন চ্যাপ্টার: ভারতে রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ডেনমার্ক থেকে আসা একজন মহিলা পর্যটক গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

বিবিসি বাংলার এক খবরে বলা হয়েছে, ৫১ বছর বয়সী ওই নারী তার হোটেলে ফেরার সময় রাতে রাস্তা হারিয়ে ফেলার পর জনাকয়েক লোক তাকে একটি নিরালা জায়গায় নিয়ে সমস্ত কিছু কেড়ে নেয় ও ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই নারী বুধবার সকালেই ভারত ছেড়ে চলে গেছেন। তবে আবারও একটি ধর্ষণের ঘটনায় ভারতে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিরাট প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

রাজধানী দিল্লির যে জায়গায় এই গণধর্ষণ ঘটেছে বলে অভিযোগ, সেটি শহরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেস থেকে সামান্য দূরত্বে, আর নয়াদিল্লি রেলস্টেশনের একেবারে কোল ঘেঁষে।

পাশেই পাহাড়গঞ্জ এলাকার অজস্র হোটেল কম বাজেটের বিদেশি পর্যটক ও ব্যাকপ্যাকারদের কাছে খুব জনপ্রিয়, এই ডেন মহিলাও উঠেছিলেন সেখানকারই একটি হোটেলে।

সেই হোটেলে ফেরার পথে রাস্তা হারিয়েই তিনি ধর্ষণকারীদের কবলে পড়েন, বিবিসিকে জানিয়েছেন দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র রাজীব ভগত।

মি ভগত বলেন, ‘নির্জন একটি জায়গায় কিছু লোককে তিনি রাস্তা জিজ্ঞেস করেছিলেন, ওরা তখন তাকে এক কোণায় টেনে নিয়ে প্রথমে তার জিনিসপত্র লুট করে, তারপর তাকে ধর্ষণ করে।’

তিনি আরও জানান, ‘পরে হোটেলে ফিরে তিনি ম্যানেজারকে জানালে তারাই পুলিশে রিপোর্ট করে, তারপর আমরা গিয়ে তদন্ত শুরু করি। তবে ওই মহিলার আগে থেকেই আজকের ফেরার টিকিট কাটা ছিল, ফলে তিনি ইতিমধ্যেই ভারত ছেড়ে চলে গেছেন।’

পুলিশ সূত্রগুলো বলছে, যাওয়ার আগে ওই মহিলা তার ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে রাজি হননি। ফলে পুলিশি তদন্তে শেষ পর্যন্ত কতদূর কী হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই অনেকে সন্দিহান।

কিন্তু আরও একজন বিদেশি পর্যটকের সঙ্গে এই ধর্ষণের ঘটনা যে ভারতের সম্মানকে আবারও ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে, তা নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ নেই।

জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মমতা শর্মারও সে কথা স্বীকার করতে কোনও দ্বিধা নেই – তিনি বলছেন এ দেশে বিদেশি মহিলাদের ধর্ষণের যে সব ঘটনা ঘটে – তাতে খুব খারাপ একটা বার্তা যাচ্ছে, ভারতের বিরাট ক্ষতি হচ্ছে।

মমতা শর্মার কথায়, ‘হ্যাঁ, ধর্ষিতা নারী দেশি হোন বা বিদেশি – দুটোই সমান খারাপ। তবে বিদেশি নারীরা এখন বলছেন – ভারত এমন এক মহান দেশ, যেখানে পুরুষই সব, নারীরা কিচ্ছু না! ভারতের এখন এই ধরনের ভাবমূর্তিই তেরি হচ্ছে।

ডেনিশ পর্যটকের গণধর্ষণের পর তা নিয়ে রাজনীতিও কিন্তু থেমে নেই। সদ্য দিল্লির ক্ষমতায় আসা আম আদমি পার্টি মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, আজ এই অভিযোগ ওঠার পর তারা বলছে রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলার ভার কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।

তাহলে ২০১২-র ডিসেম্বরে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের ঘটনায় কেন দিল্লির তখনকার মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল, উঠছে সেই পাল্টা প্রশ্নও।

আর এই সব বাগবিতন্ডার মধ্যেও যে সত্যিটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে – তা হল দিল্লি তথা ভারত মহিলাদের জন্য মোটেই নিরাপদ নয়!

বামপন্থী নেতা অতুল আনজান বলছেন, ‘এই গণধর্ষণ লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট করে দিচ্ছে। একদিকে সরকার বিজ্ঞাপন দিয়ে বলছে অতিথি দেব ভব – আর বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে আমরা এই ধরনের আচরণ করছি!’

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে শ্লীলতাহানি, লাঞ্ছনা, লুটপাট বা ধর্ষণের ঘটনা যে একের পর এক ঘটেই চলেছে – তাতে তারা ভারতে আদৌ কখনও ফিরতে না-চাইলে সেটাই বোধহয় হবে স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.