‘শেখ হাসিনা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করে না’

Hasina 6উইমেন চ্যাপ্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করে না। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক চাপ, যা-ই হোক।’ তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বঙ্গভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এভাবেই উত্তর দেন তিনি। আবারও জনগণের ‘সেবা’ করার সুযোগ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়া বড় কথা নয়, জনগণের জন্য কাজ করাই বড় কথা।’ পরপর দুবার সরকার গঠন করতে পারায় সরকারের উন্নয়নকাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এবার বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে উল্লেখ করে এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সকলেই সমর্থন করবে। আমাদের কূটনৈতিক সাফল্য আছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে চান। বিরোধী দলের সদস্যরা মন্ত্রিসভায় থাকায় ‘অভিনব’ ধরনের মন্ত্রিসভা হলো কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঐকমত্যের সরকার ১৯৯৬ সালে হয়েছিল।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই সবাইকে নিয়ে চলতে বলেন। আবার সবাইকে নিয়ে চলতে গেলে প্রশ্ন তোলেন।’

আগামী জুনের মধ্যে পদ্মা সেতুর মূল সেতুর কাজ শুরু হবে বলে এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি বাংলাদেশ বন্ধ করার ব্যাপারে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে মামলা চলছে। আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে।’

সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপির সমর্থন চাইবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকলের সহযোগিতা চাই।’ তবে আবারও তিনি জনগণের স্বাভাবিক জীবনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ধ্বংসাত্মক কাজ বন্ধ করতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান। জানিয়ে দেন, যেকোনো আলোচনার আগে বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে হবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে। রায় হবে, তা কার্যকর হবে।’

মন্ত্রিসভা নিয়মিত পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ছিটমহল ও তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয় নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কথা বলবেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সবাই গণতন্ত্রের পথে থাকবেন, এটাই আমাদের আশা। গণতন্ত্র সুরক্ষায় যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, আমরা নিব। আমরা চাই বাংলাদেশে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।’ প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর দোয়া চেয়ে বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে হবে উন্নত দেশ।’

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.