ঋষিপাড়ায় হিন্দু নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

উইমেন চ্যাপ্টার: যশোরের একটি গ্রামে একটি হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনায় পাশাপাশি কয়েকটি বাড়িতে অন্তত দু’জন নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের দু’দিন পর মঙ্গলবার রাতে মনিরামপুরের একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

বিবিসি বাংলার এক খবরে বলা হয়েছে, ঘটনার শিকার দুটি পরিবারের সদস্য এবং তাদের প্রতিবেশীরা জানান, নির্বাচনে ভোট দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে হামলাকারীরা তাদের নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখায়, কিন্তু মুখে কাপড় বাঁধা থাকায় তারা হামলাকারীদের চিনতে পারেননি।

এবারের নির্বাচনের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বহু ঘটনা ঘটলেও ধর্ষণের অভিযোগ এটাই প্রথম। প্রত্যন্ত ঋষিপল্লী নামের একটি গ্রামে মঙ্গলবার রাতে ওই গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে বলে নির্যাতিতরা জানিয়েছেন।

ধারালো অস্ত্র নিয়ে আট থেকে দশজন ব্যক্তি গ্রামের এক কোনে ওই হিন্দু পরিবারগুলোর উপর হামলা করে।

নির্যাতনের শিকার এরকম একজন নারীর একজন আত্মীয় বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, গভীর রাতে আট/দশজন ব্যক্তি এসে তাদের বাড়ির উপর হামলা করে। ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে বাড়ির দরজা খুলতে বাধ্য করে। তার ছেলেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। এরপর তার ছেলের স্ত্রীকে কয়েকজন মিলে নির্যাতন করে।

তিনি জানান যে এর আগে তারা তার ভাসুরের মেয়েকেও নির্যাতন করেছে।

নির্যাতিতদের এই আত্মীয়া বলছেন, পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে তাদের হুমকি দেয়া হয়েছিল তারা যেন কেউ ভোট দিতে না যান।

তিনি বলেন, “হামলাকারীরা আমাদের জিজ্ঞেস করে, ভোট দিয়েছিলি? আমরা বলি ভোট দেই নাই। কিন্তু তারপরেও নির্যাতন করেছে।”

হামলাকারীদের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল বলে তিনি কাউকেই চিনতে পারেননি বলে জানান।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আফজাল হোসেন জানান, ঘটনার পর লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারগুলো কাউকেই এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। বরং নির্যাতিতরা গ্রামটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।

মি. হোসেন বলেন, “সকালে তারা কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার সময় প্রতিবেশীরা জানতে চান, তারা হঠাৎ করে চলে যাচ্ছেন কেন? এভাবেই বিষয়টি জানাজানি হয়।”

তিনি জানান, এই বাড়িগুলো একটি মাঠের ভেতরে হওয়ায় প্রতিবেশীরাও ঘটনাটি টের পাননি।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে ওই ঘটনাটি ঘটলেও বৃহস্পতিবার ঘটনাটি জানা যায়। বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে যাওয়ার পরেই পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারে।

গণমাধ্যমে এই ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের দায়ী করে দুটি মামলা করা হয়েছে।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর রেজাউল হোসেন বলছেন, এজন্যে কারা দায়ী, সে বিষয়ে তাদের কাছে এখনো কোন তথ্য নেই।

তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু হওয়ার পর বেশ কিছু ব্যক্তি ওই গ্রামের আশেপাশে লুকিয়ে ছিল বলে তারা খবর পেয়েছিলেন। হয়তো তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে তাদের ধরার জন্যে অভিযান শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচনের দিন শুধুমাত্র যশোরেরই অপর একটি থানা অভয়নগরে শতাধিক হিন্দু বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়েছে ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.