দেবযানীর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ নিয়ে বিতর্ক

Debjaniউইমেন চ্যাপ্টার: যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবড়াগাড়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আইনজীবীরা বলছেন, কূটনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী তিনি এসব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এবং বৃহস্পতিবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন।

ভিসা জালিয়াতি এবং গৃহকর্মীকে দেয়া বেতন নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল দেবযানীর বিরুদ্ধে। তাঁকে গ্রেপ্তার করা এবং হয়রানির ঘটনায় পুরো ভারতবর্ষ জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। পরে আড়াই লাখ ডলারে তিনি জামিন পান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, দেবযানী তাঁর গৃহকর্মীর জন্য কাজের অনুমতিসহ একটি জাল ভিসার ব্যবস্থা করেছিলেন।  এছাড়া এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের কাছে বেশ কয়েকবারই মিথ্যা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন গৃহকর্মীর জন্য, এমন অভিযোগও করা হয়েছে। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেলে দায়িত্ব পালনের জন্যই তিনি গৃহকর্মীকে আনার পরিকল্পনা করেছিলেন।

নিউইয়র্কে ডেপুটি কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্বরত দেবযানী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেছেন, তিনি তার ভারতীয় গৃহকর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যূনতম বেতনভাতা অনুযায়ী মাসে সাড়ে চার হাজার ডলার দিতেন। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, তিনি এর চেয়ে কম বেতন দিতেন ওই গৃহকর্মীকে।

এদিকে দেবযানীর আইনজীবীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিচারকের কাছে এক চিঠিতে আইনজীবী লিখেছেন, দেবযানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কোন প্রয়োজন নেই, কারণ তাকে সম্প্রতি কূটনীতিক সুরক্ষা দেয়া হয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। তবে চিঠিতে এটাও বলা হয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বহাল থাকবে যতদিন না তিনি আদালতে হাজির হচ্ছেন। মার্কিন এটনিৃ প্রিত ভারারা চিঠিতে জানিয়েছেন, আমরা যদি জানতে পারি না ওই কূটনীতিক আবার যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন কূটনৈতিক সুরক্ষা ছাড়াই তবে তা আদালতে সাথে সাথেই জানানো হবে। এবং তখন সরকার এই মামলাটি আবার এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এদিকে দেবযানী যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন বলে জানানো হলেও তারই আইনজীবী বলেছেন, তিনি এখনও সেখানেই আছেন। এটর্নি ড্যানিয়েল আরশাক এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেবযানী তার নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টেই আছেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.