যৌন হয়রানির অভিযোগে মানবাধিকার কমিশন প্রধানের পদত্যাগ

Stop Violence 2অমিতাভ ভট্টশালী (বিবিসি বাংলা): ভারতে একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার কমিশনের প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অশোক গাঙ্গুলী।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের কাছে গত সোমবার তিনি পদত্যাগ পত্র জমা দিলেও মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগের কথা জানানো হয়।

দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও আইনজ্ঞদের একটা বড় অংশ তাঁর পদত্যাগের দাবি করার পরে মি. গাঙ্গুলীকে পদ থেকে অপসারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতি।

রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলী লিখেছেন যে, এক শিক্ষানবিশের তোলা যৌন হেনস্থার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহল থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য যে চাপ আসছে, তার ফলে মানবাধিকার কমিশনের প্রধান হিসাবে কাজ করতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছে।

ওই সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন পদত্যাগ পত্রে। এই পরিস্থিতিতে তিনি আর মানবাধিকার কমিশনের প্রধান থাকতে চান না।

ইস্তফা দেওয়ার পরে রাজনৈতিক দলগুলোসহ ভারতের মহিলা কমিশন বলেছে, মি. গাঙ্গুলীর আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল।

দু’মাস আগে এক মহিলা শিক্ষানবিশ আইনজীবী একটি ব্লগে অভিযোগ করেন, ২০১২ সালের শেষে আইনি কাজে সাহায্যের জন্য হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে বিচারপতি গাঙ্গুলী তাঁকে মদ্যপান করান ও তারপরে আপত্তি করা সত্ত্বেও গায়ে হাত দেন।

পুলিশ বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ওই শিক্ষানবিশ আইনজীবী এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি।

অভিযোগ ওঠার পরে সুপ্রিম কোর্ট একটি প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়। কিন্তু ওই তদন্তের এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে ভারতে।

ভারতের প্রধান বিচারপতিকে লেখা এক চিঠিতে মি. গাঙ্গুলী নিজেও ওই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্তব্য করেছেন, বড় বড় দুর্নীতির মামলায় তিনি যে সব রায় দিয়েছিলেন, সে কারণেই রাজনীতিবিদরা বদলা নিতে ষড়যন্ত্র করছেন।

মানবাধিকার কমিশনের প্রধান হিসাবে তার দেওয়া বিভিন্ন নির্দেশে অস্বস্তিতে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও।

মিজ. ব্যানার্জী এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসও মি. গাঙ্গুলীর পদত্যাগের দাবি করছিলেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.