আমার দুঃখিনি বাংলা

Hindu 3
ছবি: সংগৃহীত

মৈত্রী মোহনা: ভারত এই দেশের কি করলো, কি না করলো, কিচ্ছু জানতে চাইনা। কোন শাঁখা পড়া নারী আওয়ামী লীগকে ভোট দিলো, কেন দিলো, তাও আমার দেখার বিষয় না। আমি শুধু এটাই জানতে চাই, নামের পিছে রায় নিয়ে আমি ডাক্তারি পরছি, আমি তো ভবিষ্যতে পাশ করে রোগী দেখার সময় এটা মনে রাখব না, যে আমি সাহা-রায়-দাশ-ঘোষদের বেশী যত্ন নিয়ে সেবা দেব, আর খান-চৌধুরি-আহমেদদের দায়সারা গোছের সেবা দিয়ে বিদায় করে দেব!

যদি আমার কাছে ধর্মের আগে দেশ, মানবিকতা বড় হয়ে থাকে, তবে কেন অন্যদের জন্য সেটা না? দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া, তাদের সহায় সম্পদ লুন্ঠন করা- এটা কোন রাজনীতির অংশ? এটা তো রাজনীতি না, এটা অপরাধ। তাহলে কেনই বা সেই অপরাধের ব্যাপারে সবাই নিশ্চুপ??? প্রধানমন্ত্রী যেসময় সাংবাদিকদের ডেকে হাসিহাসি মুখে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে zero tolerance এর ঘোষণা দেন, তখনই দেশের কোন এক গ্রামে কোন একটা গোষ্ঠি হিন্দুদের বিরুদ্ধে zero tolerance নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কোন ঘোষণা ছাড়াই!

প্রধানমন্ত্রী কি জানেন না, বা তার চারপাশের মানুষজন কি জানেন না, নির্বাচনের পর কোন জায়গায় এই সহিংসতাগুলো হয়? তাহলে সেগুলো রুখতে কেন আগে থেকে কোন সাবধানতা নেয়া হয়নি? নাকি সন্ত্রাস বিহীন clean and clear পরিস্থিতি শুধু ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে রাখলেই চলে? বাকি দেশে কোথায়, কে মরলো, কোন গ্রামে এই তীব্র শীতে হাজারো সংখ্যালঘু কোন দোষ ছাড়াই, বাড়ি ঘর হারিয়ে বা বিতারিত হয়ে ঠান্ডায় কাঁপলো, তাও উনার দলকেই ভোট দেয়ার অপরাধে(!)- তা উনার দেখার বিষয় না?

আমি কোন ফেসবুক সেলিব্রেটি না, আমার স্ট্যাটাসে কোন কিছুই আসবে যাবে না। তবুও আমি যখন যা ইচ্ছা হয়, মানুষের সাথে শেয়ার করার মতো, লিখে দেই! কিন্তু সেগুলোর মাঝে ভুলেও আমি হিন্দু হিসেবে নিজেকে চিন্তা করে ভারতকে সাপোর্ট করে কোনদিন কিছু লিখিনি, বরং ভারত বিদ্বেষমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে আমার ভারতীয় কাজিন এবং বন্ধুদের চক্ষুশূল হয়েছি অনেকবার, but i didn’t give a damn about it even! কারণ আমি জানি, আমি ঠিক,আমার দেশ ঠিক; ভারত ভুল। তাই সেই ভুলের বিরুদ্ধে কথা বলাতে কে কী ভাবল, কে কি বললো, সে আমার যতই প্রাণের আপনজন হউক না কেন, i just don’t care!

আমি আজ পর্যন্ত কখনো ধর্মীয় কোন ইস্যু নিয়ে কোন স্ট্যাটাস দেইনি। ব্যাপারটা স্পর্শকাতর, এটা যতটা না তার কারণ, তারচেয়ে বেশী মুখ্য হচ্ছে, ধর্ম আমার কাছে priority list এ অনেক নিচে থাকা একটা factor. আমার জীবনে হিন্দুত্বের অনেক উপরে আমার দেশ, দেশপ্রেম, মানবিকতা, মানবধর্মের অবস্থান।

তবুও আজকে লিখতে বাধ্য হলাম। যদিও জানি, যতটা না লিখছি আমার জাতের মানুষদের কষ্ট দেখে, তারচেয়ে বেশী কষ্ট পাচ্ছি, কারণ তারাও মানুষ। আর আমার কাছে ‘স্বজাতি’ হিন্দুরা না, আমার কাছে ‘স্বজাতি’ প্রতিটা বাঙ্গালী। আবারো বলছি, আমি জানি, আমার এই পোস্টে কিছুই যায় আসবে না। হয়তো ক্রোধ আর ভেতরের আক্ষেপ-কষ্ট টা বের করার আর কোন উপায় নেই বলে কিবোর্ডটাই বেছে নিলাম। শুধু একটাই আশা নিয়ে, যাদের লেখায় আসলেই কিছু হবে, যাদের কথায় আসলেই কতৃপক্ষের, রাষ্ট্রের, সরকারের টনক নড়বে, তারা প্লিজ এগিয়ে আসুন।

দেশটা তো সকলের, হিজাব করা নারীটি যতটা বাঙ্গালী, হাতে শাঁখা-পলা পরা মেয়েটিও ঠিক ততটাই বাঙ্গালী, বাংলাদেশী। তাদের অকারণ কষ্টের মাঝে ফেলবেন না, তাদের দীর্ঘশ্বাসের বোঝায় আর বাংলাদেশের মাটিকে ভারী করবেন না! প্লিজ!

(লেখাটি ফেসবুক থেকে নেয়া)

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.