ভোটারদের ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

Hasina 6
ছবি: সংগৃহীত

উইমেন চ্যাপ্টার: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়ায় সাধারণ জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার বিকেলে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শত হুমকি ও বাধা উপেক্ষা করে এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানাই। নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী, অত্যন্ত সাহসিকতার মাধ্যমে কাজ করায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই।’

নির্বাচনের কাজ করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব সদস্য আহত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা এবং নিহতদের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যেসব নেতা-কর্মী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সন্ত্রাস ও সহিংসতা মোকাবিলা করে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তারা সবাই দেশপ্রেমিক।

এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ এক অশুভশক্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রের জনগণের জান-মাল রক্ষায় প্রশাসনের সব স্তরকে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু গণতন্ত্র নয়, এ নির্বাচন নতুন প্রজন্মের জন্য উপহার। এর মাধ্যমে লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত সোনার বাংলা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
‘প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে এ নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারত। আমি বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনতে অনেকবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তিনি না এসে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন।’

নির্বাচনে না এসে বিএনপি নেত্রী একুল-ওকুল দুকুলই হারিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি (খালেদা জিয়া) নির্বাচনেও অংশ নেননি, আর বিরোধী দলীয় নেতাও থাকতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিরোধী দলীয় নেতা নৈরাজ্য ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছেন। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য পরিহার করে শান্তিপূর্ণভাবে আসুন। আগামী নির্বাচনের জন্য আসুন। সবাই শান্তি চায়। কিন্তু বিরোধী দলের সহিংসতায় নিরীহ নাগরিকদের রক্তে গণতন্ত্র আজ রক্তাক্ত।’ এ সময় ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে সব আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে। জনগণ আমাদের পাশে আছে, থাকবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালে হবে উন্নত দেশ। অর্থনৈতিক উন্নয়ন তারা বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মসিউর রহমান, গওহর রিজভী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.