‘গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে ভোট দিন’

Hasina 4উইমেন চ্যাপ্টার: জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে তার দল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। নির্বাচনে বিরোধী দল না থাকলেও গণতন্ত্র সমুন্নত ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ভোটের তিন দিন আগে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।

যে সব অঙ্গীকার করে পাঁচ বছর আগে ক্ষমতা নিয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশি কাজ করার দাবি করে এবারও নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, “একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার শপথ নিয়েছিলাম। তাই, সাংবিধানিকভাবেই আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

গত ৩৮ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে তা দূর করতেই সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

“অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল আর জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অসুস্থ ধারাকে চিরতরে বন্ধ করার জন্য বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশের মতোই একটি স্থায়ী নির্বাচনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

“একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো অনির্বাচিত ব্যক্তির অধীনে নং।”

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে। সে দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় ভোট ঠেকাতে ১ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ ডেকেছে তারা।

বিরোধী দলকে প্রত্যাখ্যান করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার জবাব দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গত পাঁচ বছরে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার ও উপ-নির্বাচনের মতো জনগণ ভীতিমুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবেন।

বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “আপনারা দেখেছেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য। …কিন্তু আমাদের আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই।”

“শুধু তাই নয়, হরতাল ও অবরোধের নামে মানুষকে জিম্মি করে সন্ত্রাস ও নাশকতা সৃষ্টি করেছে।…ককটেল আর পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। পুলিশ, বিজিবিসহ অনেককে হত্যার শিকার হতে হয়েছে।”

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, লুটতরাজের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে রাস্তা কাটা, রেল লাইন উপড়ে ফেলা, গাছ কাটার কথাও বলেন তিনি।

গতবারের মতো এবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দেন শেখ হাসিনা।

“আপনাদের নির্বাচিত সরকার তার অঙ্গীকার পালন করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা আপনাদের কাছে দেয়া ওয়াদার চাইতেও বেশি কাজ করেছি।”

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মহাজোট সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং পদক্ষেপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.