অন্যায়কে ‘অন্যায়’ বলতে শিখুন

women torture 2তানিয়া মোর্শেদ: একজনকে ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে বের করে দিলাম। মত পার্থক্য, আদর্শের পার্থক্য, জীবন বোধের পার্থক্য, রাজনৈতিক দলকে সাপোর্ট করবার পার্থক্য, যে কোনো পার্থক্য মানে এই নয় যে সেই মানুষ বা মানুষদের মানুষ না ভাবা। যুক্তি দিয়ে পার্থক্য দেখান, প্রতিবাদ করুন এমনভাবে যেন নিজে যে মানুষ হয়ে জন্মেছেন তা যেন বোঝা যায়।

হেফাজতিরা সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনকে আক্রমণ করেছে বলে বিএনপি’র নারী বা নারীদের আক্রমণ করে নিজের পুরুষতান্ত্রিকতা দেখিয়ে নিজের দলকেই ছোট করছেন।

আর ফেসবুকে অযৌক্তিক যুক্তি দিয়ে নিজের পুরুষতান্ত্রিকতাকে ঢাকবার চেষ্টা করা হাস্যকর, নাদিয়া শারমিনের ঘটনা তুলনা করে। মন্দ, অন্যায়কে মন্দ, অন্যায় বলতে শিখুন। যদি বলতে নাও পারেন, দয়া করে চুপ থাকুন। এক খারাপের সাথে তুলনা করে আরেক খারাপকে প্রতিষ্ঠিত করবেন না। যাকে বের করেছি তিনি ক’দিন আগে বন্ধু তালিকায় যোগ করতে বলেছিলেন। উচ্চ শিক্ষিত, এদেশে প্রতিষ্ঠিত মানুষ কোনো নারীকেই “ম” অক্ষর দিয়ে গালি দিয়ে লিখবেন (হোক তা আমার অপছন্দের দলের) আর আমার বন্ধু তালিকায় থাকবেন তা হয় কী করে! তিনি আজ যা করলেন তা আগামীকাল আরেকজন করবে বা করছে ক্ষমতাসীন দলের নারী বা প্রধানকে নিয়ে! কোথায় যাচ্ছি আমরা! দলকানাদের অযৌক্তিক যুক্তি দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত।

মানুষের মাঝে এত নোংরামো দেখে মনে হচ্ছে যে, এদের কেউ কেউ হয়ত পাকিস্তানী নারীদের ধর্ষণ করে ১৯৭১-এর ২~৪ লক্ষ ধর্ষিতা বাংলাদেশী নারীদের সম্মান দেখাতে চাইতে পারেন! অথচ নিজেরা কখনো খোঁজও রাখেন না সেই সব মুক্তিযোদ্ধা নারীদের! হ্যাঁ আমি তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা বলি। “ব” দিয়ে শব্দটি ব্যবহার করে আমি তাদের আলাদা করে দিতে চাইনা।

শব্দটি এই অসভ্য জাতি আমরা ভালো ভাবে নেইনি। তাই এই শব্দ তাঁদের অসম্মান ছাড়া আর কিছুই দেয়নি। তাঁরা ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থেকেছেন, আছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা নারী (সক্রিয় ভাবে যোদ্ধা, পরবর্তীতে আর্মী ক্যাম্পে ধর্ষিতা) বলেছেন (ক’দিন আগে) ক্যাম্পে অসহ্য নির্যাতনের মাঝেও বাঁচার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু বাড়ীতে ফিরে নিজের মা, ভাই, গ্রামের মানুষের ব্যবহারে তিনি মরতে চেয়েছিলেন! এই হচ্ছে আমাদের জাতির পরিচয়! আজও বলা হয়, লেখা হয় “সম্ভ্রমহানি”!

ধর্ষণ বা রেইপ মানে কি সম্মান খোয়ানো??!! হত্যার মত আরেকটি চরম অপরাধ হচ্ছে ধর্ষণ। এর সাথে সম্ভ্রম বা সম্মানের কোনো সম্পর্ক নেই। সম্ভ্রমহানির এই চিন্তা থেকেই অনার কিলিং শব্দটি বাস্তবতা পায়। ধর্ষিতার সম্মান যায় না। যায় ধর্ষকের। এই শব্দের অপব্যবহার (সম্ভ্রমহানি) করে চলেছেন পুরো জাতি। ফেইসবুকে, লেখায়, টিভিতে, ব্লগে (এমনকি শহীদ বুদ্ধিজীবীর উচ্চ শিক্ষিত, সুপ্রতিষ্ঠিত নারী সন্তানও লিখেছেন) সব জায়গায় এই শব্দের ব্যবহার। পুরুষতান্ত্রিকতা মুক্ত মানুষ (পুরুষ কী নারী) হারিকেন নিয়ে খুঁজতে হয়।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.