সমন্বিত গণমাধ্যম নীতিমালা প্রয়োজন

Newspaper pixউইমেন চ্যাপ্টার: সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, অনলাইন এমনকি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আর এই সমন্বিত নীতিমালার আওতায় প্রতিটি ভিন্ন গণমাধ্যমের জন্য ভিন্ন নীতিমালা থাকবে।

ইনস্টিটিউট অব কমিনিউকেশন স্টাডিজ (আইসিএস) এবং ইউনাইটেড নেশন এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (ইউনেস্কো) যৌথ উদ্যোগে শনিবার অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৩‘ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বলেন, অনেকগুলো নীতিমালা প্রণয়ন না করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে সেটি প্রয়োগ করা ও মেনে চলা সহজ হবে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ  ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি, বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী এবং জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, যমুনা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান জাকারিয়া কাজল, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের বার্তা প্রধান মাহমুদ মেনন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সাইফুল আলম চৌধুরী, আইসিএস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর তাসিক, পরিচালক জাহিদ হোসেন, এএনএম গোলাম কিবরিয়া, সাংবাদিক সুপ্রীতি ধর, আঙ্গুর নাহার মন্টি, জুলহাস আলম, সেলিম বাশার, আইএফএডি‘র নলেজ ম্যানেজমেন্ট অফিসার শামীম আরা শিউলী প্রমুখ।

গণমাধ্যমের জনশক্তি, মালিক পক্ষ এবং সম্প্রচার এই তিনটি বিষয়ের সার্বিক দিক ও অংশীদারদের স্বার্থ বিবেচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, সরকার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৩ নামে যে খসড়াটি তৈরি করেছে, তা শুধু রেডিও ও টেলিভিশনের জন্য করা হয়েছে। এই নীতিমালাটি সব ধরনের গণমাধ্যমের জন্য হতে হবে। তাহলেই এটি পূর্ণাঙ্গ হবে।

বর্তমান খসড়াটির ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, খসড়াটিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও সুবিধার বিষয়টাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এটি সরকার, গণমাধ্যমকর্মী ও মালিক পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তাছাড়া সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষার জন্যও একটা নীতিমালা করা প্রয়োজন। তবে সম্প্রচার নীতিমালার নামে যে খসড়াটি হয়েছে, তাতে আমি একমত নই।

জাকারিয়া কাজল বলেন, গণমাধ্যম নীতিমালা যেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ মনে না হয়। এতে সব পক্ষের স্বার্থ বজায় থাকতে হবে। এটা যেন কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণমূলক না হয়ে উঠে। যত বেশি লোক এর সাথে সম্পৃক্ত হবে, ততই ভাল।

মাহমুদ মেনন বলেন, গণমাধ্যমের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হচ্ছে। এটি দ্রুত প্রণয়ন করা দরকার। আর শুধু গণমাধ্যম নয়,  ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমকেও সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আনতে হবে, যাতে কেউ এর অপব্যবহার বা আজে-বাজে মন্তব্য না করতে পারেন। এ ছাড়া অনলাইন পেজ হ্যাককারীদের জন্যও শাস্তির বিধান রাখা দরকার।

সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত গণমাধ্যমের জন্য ৪৩টি আইন, নীতিমালা ও বিধিবিধান রয়েছে যা বিশ্বের কোথাও নেই। অথচ এদেশে এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত গণমাধ্যম নীতিমালা করা যায়নি।  তিনি গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালার পাশাপাশি গণমাধ্যমের শিক্ষা, গণমাধ্যম পরিচালনা পদ্ধতি ও ভোক্তার অধিকারও নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.