পাকিস্তানী পণ্য বর্জনের আহ্বান

Gonojagoron 20 Decউইমেন চ্যাপ্টার: আগামী সাতদিনের মধ্যে পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক সাময়িক স্থগিত এবং সকল ধরনের পাকিস্তানি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। সেইসাথে বৃহস্পতিবার গুলশান ২ এ গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জের জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেয়া হবে বলে শুক্রবার বিকেলে শাহবাগে এক প্রতিবাদী সমাবেশ থেকে জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ বেশকিছু কর্মীর ওপর লাঠিচার্জ এবং আটকের প্রতিবাদে শাহবাগে শুক্রবার বিকালে প্রতিবাদ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন লেখক অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক ইয়াসমীন হক, নারীনেত্রী খুশী কবির, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, বাপ্পাদিত্য বসু, শিপ্রা বোস, মারুফ রসুল, লাকি আক্তারসহ আরও অনেকে।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় আহতদের মধ্যে অনেকেই বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, গত ১১ মাস ধরে গণজাগরণ মঞ্চ অহিংস আন্দোলন চালিয়ে আসছে, কোথাও একটি ঢিল পর্যন্ত মারেনি, অথচ সেই তাদের ওপরই মারমুখী হলো পুলিশ। তাদের ভাষায়, পুলিশের মধ্যেও যে জামাত-শিবির লুকিয়ে আছে, বৃহস্পতিবারের ঘটনা তাই প্রমাণ করে। তারা অবিলম্বে দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবি জানান।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল তার বক্তব্যে বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ‘নাক’ কেটে দেয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের সেই কাটা নাক যেন আর না গলায়।

একাত্তরে বাবাকে হারানো জাফর ইকবাল বলেন, “পাকিস্তান তুমি কি জানো না, তোমার নাক ১৯৭১ সালে কেটে দেয়া হয়েছিলো। তোমাদের নাক বলে কিছু নেই। নাক গলাতে এসো না। তোমাদের নিজেদের সমস্যা সমাধান করো।

“তোমরা সারা পৃথিবীতে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস রপ্তানি করো। আর বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মডেল। আমাদের এই তরুণেরা এদের মতো সত্য-সভ্য-শান্ত দেশপ্রেমিক পৃথিবীর কোথাও নেই। কিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয়, তা এদের মাধ্যমে শেখো। তোমাদের নাক বলে কিছু নেই, তোমরা এখানে নাক গলাতে এসো না।”

যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলনরত গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে এই লেখক বলেন, “আমি কখনোই এখানে বক্তব্য দিতে আসি না। আমি বক্তব্য শুনতে আসি। আমি তরুণদের দেখতে আসি, যারা ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দিবে।

“ আমি কোনদিন ভাবিনি, এদের উপর বাংলাদেশের পুলিশ হামলা করতে পারে’। এখন দায়ী পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দিয়ে এই তরুণদের মনকে হালকা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

“মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম গুলি চালিয়েছিল রাজারবাগের পুলিশরা। তোমাদের কি লজ্জা হলো না, ক্ষমা চাও, এদের কাছে।”

জাফর ইকবাল বলেন, “তরুণদের ওপর যে সব পুলিশ হামলা চালিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে প্রত্যাহার করো। আমি চাই না বাংলাদেশের পুলিশ এই দুর্নাম নিয়ে থাকুক।”

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড গত ১২ ডিসেম্বর কার্যকরের পরপরই পাকিস্তানের নানামহল থেকে প্রতিবাদ উঠে।

‘ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের’ একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডে উদ্বেগ জানিয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পাস হয়। এছাড়া পাকিস্তানে বাংলাদেশ দুতাবাসে হামলারও হুমকি দেয় তেহরিক ই তালিবান নামের একটি গোষ্ঠী।

পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে সারা দেশ। দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে গুলশানে পাকিস্তান হাই কমিশন অভিমুখে বুধবার মিছিল করে গণজারণ মঞ্চ। সেদিনও পুলিশের ধাওয়ায় আহত হয় অনেকে। সেই রাতেই মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারকে ২০ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়া হয়।

আল্টিমেটাম শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে আবারো পাকিস্তান হাই কমিশন অভিমুখে গণজাগরণ মঞ্চ মিছিল শুরু করলে গুলশানে তাদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। এ সময় মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ বেশ কয়েক জন আহত হন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.