আর ফিরলেন না খালেদ খান

Khaled Khanউইমেন চ্যাপ্টার: সেই ভরাট কণ্ঠ, সেই বলিষ্ঠ অভিনয় থেকে অনেকদিন ধরেই বঞ্চিত ছিল এদেশের মানুষ। তবুও মনের কোণে হয়তো এক চিলতে আশা জ্বল জ্বল করতো, হয়তো কোনদিন ফিরে আসবেন তিনি, সবার প্রিয় যুবদা। না, তিনি ফিরলেন না। শুক্রবার রাতে চিরতরে চলে গেলেন তিনি। শান্তির ঘুম তাকে নিয়ে গেল আমাদের থেকে অনেক দূরে।

তিনি অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক খালেদ খান। দীর্ঘদিন মোটর নিউরন ও হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি। হুইল চেয়ারেই চলাফেরা করতে হতো তাঁকে। এভাবেই তিনি নিয়মিত ক্লাসও নিয়ে আসছিলেন ইউল্যাব এ। কিন্তু গত সোমবার হঠাৎই হৃদরোগে আক্রান্ত হলে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকেই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়া হয়।

বারডেমের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (আইসিইউ) কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রাত ৮টা ১৮ মিনিটে লাইফ সাপোর্ট খুলে নিয়ে খালেদ খানকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মূহূর্তে খবর ছড়িয়ে পড়ে, একে একে ছুটে আসেন দীর্ঘদিন একসাথে কাজ করা মানুষগুলো, বন্ধু, সতীর্থ, আত্মীয়-স্বজন। স্ত্রী রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী মিতা হক তখন বারডেমের আট তলায় ৭১২ নং রুমটিতে অসংখ্য মানুষের ভিড়ে অনর্গল কথা বলেই চলেছেন। কোথায় সবাই তাকে সান্ত্বনা দেবেন বলে আসছেন, তিনিই সবাইকে উল্টা বুঝিয়ে চলেছেন ধীরস্থির হতে। সান্ত্বনা দিচ্ছেন খালেদ খানের বোন ডলিকে। একজন বললেন, ‘মিতা আপা যেভাবে কথা বলছেন, এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়। তিনি আগের রাত থেকেই খালেদ খানের সাথে তার পরিচয়, প্রেম, বিয়ে এসব কথাই বলছেন বার বার। আর আজ তা যেন বাঁধ ভেঙ্গে গেছে’।

একমাত্র মেয়ে জয়িতা গত পরশুই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মেডিকেল বোর্ড গঠনের কথা, কিছুটা আশার আলো তখন সবাই দেখেছিলেন। কিন্তু অনেকেই বলাবলি করছিলেন, আসলে ১৬ ডিসেম্বরই সব শেষ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়েই সাপোর্টটা রাখা হয়েছিল।

আশির দশকে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন খালেদ খান। তিনি হুমায়ূন আহমেদের ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ ও ইমদাদুল হক মিলনের ‘রূপনগর’ নাটকে অভিনয় করেন। ‘এইসব দিনরাত্রি’তে তার অভিনয় আশির দশকের যে কারও মনে থাকবে চিরদিন।
নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের হয়ে তিনি মঞ্চে ৩০টির বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। নির্দেশনা দিয়েছেন ১০টির বেশি নাটক।

অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ‘রক্ত করবী’ নাটকের বিশু পাগল চরিত্রে অভিনয় করেন। সুবচন নাট্য সংসদের ‘রূপবতী’ নাটকেরও নিদের্শনা দেন।

রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হক তার স্ত্রী। কণ্ঠশিল্পী ফারহিন খান জয়িতা তাদের সন্তান।

 

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.