‘ভাবলাম শত্রুপক্ষ বুঝি হামলা করেছে’: প্রিয়ভাষিনী

Pakistna Hamlaউইমেন চ্যাপ্টার: ‘ভিড় আমার সহ্য হয় না, সবসময় ভিড়কে এড়িয়ে চলি। কিন্তু কিভাবে যেন ছেলেপিলেগুলোর মাঝখানে গিয়ে পড়লাম। আর যখন পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলো, কোথা থেকে কী হলো, নিচে পড়ে গেলাম। গড়াতে গড়াতে গিয়ে পড়লাম আরেকজনের ওপর। পুলিশের দুটি বন্দুক এসে পড়লো কাঁধের ওপর। আরেকটু হলে মানুষের পায়ের নিচে পড়েই মরে যেতাম’। কথাগুলো মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনীর।

বুধবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডি ৩ নম্বরে তাঁর বাসায় বসে কথা হচ্ছিল। পাকিস্তান দূতাবাস অভিমুখী গণজাগরণ মঞ্চের মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটায় তিনিসহ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। বাপ্পাদিত্য, নাফিজ বিন্দু এবং বনানী বিশ্বাসকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এর মধ্যে বিন্দুর শরীরে পুলিশের বুটের আঘাত রয়েছে। বনানী বলছিলেন, তাকে বন্দুকের নল দিয়ে খোঁচা দেয়ায় তিনি পেটে অসম্ভব ব্যথা পেয়েছেন।

যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে শোকপ্রস্তাব আনা এবং খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন এমপির মন্তব্যের বিরোধিতা করে এর প্রতিবাদে বুধবার বিকালে গুলশানে দেশটির দূতাবাস অভিমুখে মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চ।

বিকাল ৩টার দিকে গুলশান-২ নম্বরে তাহের টাওয়ারের সামনে মিছিলটি আটকে দেয় পুলিশ। তখন পাশেই সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা।

এ সময় তাদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করলে বাপ্পাসহ তিন জন আহত হন। এরপর বিক্ষুব্ধরা পুলিশের বাধা পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আল-ফালাহ ব্যাংকের সামনে দ্বিতীয় দফায় মিছিলটি আটকে দেয় পুলিশ। এরপর ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে গণজাগরণ মঞ্চের মিছিল কূটনৈতিক পাড়ায় ঢুকে পড়ে।

এরপর অস্ট্রেলিয়ান স্কুলের সামনের সড়কে তাদের আবারও আটকানো হয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে মিছিলকারীরা। পাকিস্তানের সঙ্গে অস্থায়ীভাবে সম্পর্ক ছিন্ন না করা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার ঘোষণা দেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। পরে পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এসে ক্ষমা চাওয়ার পর বুধবারের মতো কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে হামলার জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘ক্লোজ’ করা এবং আগামী ২০ ঘন্টার মধ্যে পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক সাময়িকভাবে ছিন্ন করার আলটিমেটাম দেয় গণজাগরণ মঞ্চ। অন্যথায় আগামীকাল বেলা ৩টায় আবারও সমাবেশ ও পাকিস্তান দুতাবাস ঘেরাও করা হবে ঘোষণা দেয়া হয়।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিনী বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম। কিন্তু পুলিশ এসে হঠাৎই লাঠিচার্জ শুরু করে। প্রথমে মনে করলাম, রাজাকাররা বুঝি হামলা করেছে। পড়ে গেছিলাম ধাক্কা সামলাতে না পেরে। কয়েকটি মেয়ে উঠিয়ে নিয়ে বললো, আপনাকে মারতে হলে আমাদেরকে মেরে পরে মারতে হবে।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এমন দুতাবাস না থাকলে কী হয়? এখন তো আসল শত্রুকে চেনা হয়েই গেছে, এদেরকে আর রাখার দরকার কি?

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.