সাদা পতাকায় ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

Businessman protestউইমেন চ্যাপ্টার: টানা অবরোধ-হরতালে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা শেষপর্যন্ত রাস্তায় নামতে বাধ্য হলেন। সাদা পতাকা হাতে হাতে রাজপথে নেমে এসে হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন তারা। এর পরিবর্তে তারা চাইলেন শান্তি, ঐক্য ও রাজনৈতিক সমঝোতা।

রোববার জামায়াতে ইসলামীর হরতাল-নাশকতার মধ্যেই নিরাপত্তার দাবি নিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে এই কর্মসূচি পালন করেন হাজার হাজার ব্যবসায়ী।

চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতিবাদে দুই দলকে উদ্দেশ্য করে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, “সমঝোতা করুন নয়তো ক্ষমতা ছাড়ুন। এভাবে চলতে পারে না। মানুষকে বাঁচানোর আন্দোলন এখন মানুষ মারার আন্দোলনে রূপান্তর হয়েছে। ব্যবসায়িক সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না হলে, জনগণের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।”

রাজধানীর সব স্তরের ব্যবসায়ী এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে মতিঝিলের আশেপাশে ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাদা পতাকা নিয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, “চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ না হলে ব্যবসায়ীরা আর ঘরে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে মালিক-শ্রমিক এক সঙ্গে রাজপথে নামবে। চলমান সহিংসতার কারণে ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশের শিল্প-বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়বে। বিবাদমান রাজনৈতিক দলের মধ্যে মধ্যে সমঝোতা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।”

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, একে আজাদ, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। এছাড়া বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম পারভেজ, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দন, সালাম মুর্শিদীসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, “চলমান সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা শান্তি চাই। রাজনীতিবিদরা লেভেল প্লেইং ফিল্ড চান, তেমনি আমরাও ব্যবসা পরিচালনার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ চাই। ধ্বংসাত্মক রাজনীতি আমরা চাইন না। আজকের এই কর্মসূচিতে গোটা দেশে লাখ লাখ ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেছে। ফলে সরকারের কাছে এই কর্মসূচি একটি বার্তা পৌঁছে দেবে।”

সালমান এফ রহমান বলেন, “রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ হলে নেতৃত্ব আমাদের দিতে হবে। তারা সমাধান করতে না পারলে আমরা রাজপথে নামবো। আমরা তাদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তারা যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন সেটা আমরা সহ্য করতে পারছি না।”

আনিসুল হক বলেন, “প্রতি পাঁচ বছর অন্তর আমাদের দেশের ইতিহাস বদল হয়। চলমান সহিংসতা অব্যাহত থাকলে আমরা ভেঙে যাওয়া মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবো না। বর্তমানে দেশের ১৬ কোটি মানুষ কারাগারে রয়েছে। এই কারাগার থেকে আমরা মুক্তি চাই। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই।”

একে আজাদ বলেন, “ক্ষমতার আসনে আপনাদেরকে আমরা বসিয়েছি। কিন্তু আপনারা আমাদের কথা ভাবছেন না। সব ধরনের ব্যবসা আজকে হুমকির মুখে পড়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসায়ীরা দুই নেত্রীর বাসভনের সামনে অবস্থান নেবে।”

কর্মসূচিতে রাজধানীর সব ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে সাদা পতাকা নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে, গত বুধবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.