আমি শুধু সাংবাদিকই নই, মানুষও

0

Jannatulজান্নাতুল বাকিয়া কেকা: সাংবাদিক হিসেবে আজ অনেক দিন পর আবারো তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের অচলাবস্থা নিয়ে রিপোর্ট করার জন্য গিয়ে এই তিক্ততার শিকার হলাম। অদ্ভুত লাগছে। কারণ হাসপাতাল গেইটে নামতেই কোন কথা নেই-বার্তা নেই, ভবিষ্যত ডাক্তার যারা অন্যের প্রাণ বাঁচাতে এখন থেকে নিজেদের তৈরি করছেন..সেই একদল ছাত্র/ছেলে আমাদের ক্যামেরাম্যানকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গেল। তাকে ঘিরে ধরে ক্যামেরা ছিনিয়ে তা ভাঙ্গার জন্য মরিয়া সেই ছাত্ররা। আর ক্যামেরাম্যান ক্যামেরা বাঁচাতে আপ্রান্ত চেষ্টা করছে, চলছে টানা হেচঁড়া।

গাড়ি থেকে নামতে না নামতেই আকস্মিক এই ঘটনায় হতভম্ব আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি এই হাসপাতালের পরিচিত এক চিকিৎসককে ফোনে জানালাম। নেতৃস্থানীয় ওই চিকিৎসকের মাধ্যমে এই হাসপাতালের ছাত্রনেতাদের আমাদের এই বিষয়টি জানাতে অনুরোধ করলাম। তারপর বেচারা নিরাপরাধ ক্যামেরাম্যানকে সাহায্য করেতে এগিয়ে গেলাম।

কিন্তু আশ্চর্য হলাম দেখে যে এক দঙ্গল ছাত্রের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী, স্নিগ্ধ, মিষ্টি চেহারার, ছোটখাটো,ফর্সা, শ্যাম বর্ণের কেউ কেউ নিতান্তই বাচ্চা ছেলে – অথচ তারা কী এক অদ্ভুত উগ্রতায় আমাকে ঘিরে ধরে চিৎকার করে সাংবাদিকতার গুষ্ঠি উদ্ধার করছে। এক পর্যায়ে আমার এত কাছাকাছি চলে এলো ওরা, তাদের নি:শ্বাস-প্রশ্বাস এর শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম । বয়সে তরুণ ওই ছেলেদের মরিয়া-নাছোড়-উগ্রতার কাছে আমি তখন ভীষণ অসহায়। পরিস্থিতি আর খারাপ হতে পারতো। তার আগেই দেখলাম কোথা থেকে কজন পুলিশ এসে আমাকে বের করে আনলো ছাত্রদের ঘেরাটোপের মধ্য থেকে। পুলিশ ক্যামেরামানকে আগেই উদ্ধার করেছে।

সাইরেন বাজাতে বাজাতে এলো অতিরিক্ত আরও এক গাড়ী পুলিশ। তারা এসেই আমাদের কাজ না করে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করলো। তারাই হাসপাতাল চত্বর থেকে অনেকটা দূরে গাড়িতে তুলে আবারও অনুরোধ জানালো, পরে বিকেলে আসার জন্য।

মনটা এত খারাপ হলো যে! হঠাৎ এভাবে কোন ঘটনা না বোঝার আগেই, ঘটনার যোগসূত্রতার কারণ ছাড়াই এভাবে আক্রান্ত হলাম! ফিরে আসার পথে বার বার মনে হলো, ওই ছাত্ররা অনেকেই আমার ছোট ভাইয়ের মতো। বয়সে আমার ছোট ভাইয়ের চেয়েও বয়সে হয়তো খুব বেশী বড়ও হবে না। আর রোগীদের ভোগান্তির কথা বাদই দিলাম। দারুণ কষ্ট পেলাম এই ভেবে যে, তারুণ্যের যে সৌন্দর্য্য-শক্তি তা কিভাবে উগ্রতায় মলিন হয়? জন্ম দেয় তিক্ততার? যাদের অধিকাংশের বাবা-মা-ই ছেলের সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন, ছেলে মানুষ হচ্ছে, সুনাগরিক হচ্ছে। কিন্তু হায়!

লেখক পরিচিতি: রিপোর্টার, চ্যানেল আই।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ১১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.