আবারও জেগে উঠেছে শাহবাগ

Shahbagউইমেন চ্যাপ্টার: আবার জেগে উঠেছে শাহবাগ। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হচ্ছে পুরো প্রজন্ম চত্বর। যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ থেকে একচুলও সরবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের কর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও চলছে শাহবাগে জড়ো হওয়ার আহ্বান।

এদিকে আজ দুপুরের দিকে গণজাগরণ মঞ্চের জমায়েতের পাশেই একটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় এক কিশোরকে সন্দেহ করে পুলিশে দিয়েছে মঞ্চের কর্মীরা।

বুধবার দুপুরে শাহবাগে মঞ্চের নেতাকর্মীদের অবস্থানের মধ্যে ইমরান এইচ সরকার সাংবাদিকদের বলেন, আগে আমরা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি জানিয়ে সমবেত হয়েছিলাম। এবার সেই রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। ফাঁসির পর রাজপথে বিজয় মিছিল করে ঘরে ফিরবো। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরে প্রয়োজনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরে প্রস্তুতি নেয়ার পর আদালতের আদেশে তা বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্থগিত হয়। সকাল ১০টা থেকে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ থাকা না থাকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। দুপুরে শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মূলতবি করে আদালত।

রাতে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা নিয়ে স্থগিতাদেশ আসার পরপরই শাহবাগে অবস্থান নেয় গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তখন থেকে তাদের সেই অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে নানা স্লোগানে ওই এলাকা মুখরিত করে রেখেছেন তারা। সকাল থেকেই রাস্তার মাঝে অবস্থান নিয়ে স্লোগানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিবাদী ও দেশাত্মবোধক গান গেয়ে উজ্জীবিত হচ্ছেন ছাত্র-জনতা।

বেলা পৌনে ১২টার দিকে মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে নৌপরিবহন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী শাহাজাহান খান শাহবাগে গিয়ে জাগরণের মঞ্চের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। এর জন্য প্রয়োজনে নিজে আন্দোলনে নামবো।”

১০ মাস আগে এই কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহবাগের অবস্থান দেশজুড়ে গণজাগরণ তৈরি করে। এদিকে গণজাগরণ মঞ্চ অবস্থান নেয়ার পর রাত ১১টার দিকে কাঁটাবনের দিক থেকে শাহবাগ লক্ষ্য করে একটি হাতবোমাসদৃশ বস্তু ছুড়ে মারা হয়। তবে তা বিস্ফোরিত হয়নি।

এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ছয়টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে গণজাগরণ মঞ্চের পাশে, ওই  সময় কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবিতে স্লোগান চলছিল সেখানে। চারটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে বিএসএমএমইউ’র সামনে এবং অন্য দুটির বিস্ফোরণ ঘটে চারুকলার ফটকের কাছে। তবে এসব বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.