‘নারীমুক্তি ও অগ্রগতির পথে বাধা প্রতিহত করতে হবে’

PM 22 Oct 13
ফাইল ছবি

উইমেন চ্যাপ্টার: নারীর অগ্রগতি ও মুক্তির পথে বাধা সৃষ্টিকারী অপশক্তির তৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে দেশের নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ষণ, নির্যাতন ও নারীর প্রতি পাশবিক আচরণের জন্য দায়ী যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের সবসময় ঘৃণা করতে হবে।
তিনি আজ সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া পদক-২০১৩ প্রদানকালে এ আহ্বান জানান।

আজ ৯ই ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবসে সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রধান দুই নেত্রী নারী বলেই তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যকে ‘দুই নারীর ঝগড়া’ হিসেবে দেখা হয়। এক্ষেত্রে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুরুষ হলে সমাজ তাদের বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যকে এভাবে দেখতো না বলেও তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে উপমহাদেশের নারী জাগরণের অগ্রদূতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেগম রোকেয়া সামাজিক বৈষম্যের নিগঢ় থেকে নারী সমাজকে মুক্ত করার অসাধ্য সাধন করছেন। এই মহিয়সী নারীর জন্ম না হলে সমাজে আজ আমরা এত সুযোগ পেতাম না।’
দেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে নারীর অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সমাজের ব্যাপক ত্যাগের বিনিময়ে অনেক জাতীয় অর্জন সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন স্বাধীন। তবে একথা মনে রাখতে হবে যে স্বাধীনতার জন্য আমাদের মা-বোনদের দখলদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দালালদের হাতে নির্মমভাবে নিগৃহিত হতে হয়েছিল। এজন্য ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও ঘরবাড়ি ধ্বংসকারী দখলদার বাহিনীর হাতে যারা আমাদের মা-বোনদের তুলে দিয়েছিল সেই যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের চিরকাল ঘৃণা করতে হবে।’
সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর ঝর্না ধারা চৌধুরী ও প্রফেসর হামিদা বানুকে রোকেয়া পদক-২০১৩ দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় সংসদে শিশু ও নারী বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত প্রফেসর হামিদা বানু ও শিশু ও নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তরিকুল ইসলাম বক্তৃতা করেন।
শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.