অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন নিয়াজ জামান

Niaz Zamanউইমেন চ্যাপ্টার: এবছর সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ড. নিয়াজ জামানকে ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার ১৪২০’ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বেঙ্গল গ্যালারিতে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন অপর কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং ফিরদৌস আজিম। এতে সভাপতিত্ব করেন পাক্ষিক অনন্যা’র সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।

বাংলা ১৪০১ সন (১৯৯৩ সাল) থেকে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর একজন কৃতী নারী সাহিত্যিক অথবা সাহিত্য গবেষককে এ পুরস্কার দেয়া হয়। এ বছরেরটা মিলিয়ে মোট ১৯জনকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

এবছর এই পুরস্কারটি পেলেন ড. নিয়াজ জামান, তাঁর জন্ম ১৯৪১ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে। বাবা ছিলেন পাঞ্জাবী, কথা বলতেন পাঞ্জাব ভাষায়। আর মা ছিলেন কলকাতার মেয়ে, কিন্তু ভাষা ছিল উর্দু। বাড়িতে ভাইবোনেরা ইংরেজিতে কথা বলতো বলে বাংলার চর্চা প্রায় ছিলই না। তাঁর লেখার ভাষা তাই ছিল ইংরেজি।

লেখালেখির শুরু হয় বিভিন্ন ম্যাগাজিনে লেখার মধ্য দিয়ে। কলেজে পড়ার সময়ই তাঁর লেখা দুটি গল্প সেসময় ছাপা হয় Young Pakistan নামের পত্রিকায়। এসময় তিনি বেশকিছু প্রবন্ধও লেখেন। এছাড়া ‘৬৮, ‘৬৯ ও ৭০ সালে পাকিস্তানের Herald, Sun এ লিখতেন।

একাত্তরের পর তিনি পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের ‘নকশীকাঁথার মাঠ’ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র লেখেন। এটি বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়। এছাড়া তিনি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র ‘লালসালু’ উপন্যাসটি অনুবাদ করেন ‘ট্রি উইদাউট রুটস’ নামে। এছাড়া আরও অনেক বিদেশি সাহিত্যকর্মও তিনি অনুবাদ করেন।

লেখকের মূল গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে The Confessional Art of Tennessee Williams, The Art of Kantha Embroidery-the first book-length study of the Kantha and a study of the partition, A Devided Legacy: The Partition in Selected Novels of India, Pakistan and Bangladesh. বইগুলো ন্যাশনাল আর্কাইভস পুরস্কার লাভ করে।

২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ‘নিউ এজ’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করেন নিয়াজ জামান। গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী সংগঠন ‘গাঁথা’- যা বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে নারী লেখকদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

শৈশব থেকে নিয়াজ জামান বেড়ে উঠেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ছাত্রজীবনে ছিলেন অসম্ভব মেধাবী। আইএ তে ১৬তম স্থান দখল করেন। এরপর পাসকোর্সে বিএ পাশ করেন হলিক্রস কলেজ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেন পিএইচডি ডিগ্রি। ১৯৬১ সালে ভিকারুননিসা নুন স্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পেশাগত জীবন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং তারও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.