দুই-তৃতীয়াংশ নারী সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়

women journalistউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নারী সাংবাদিক তাদের কর্মক্ষেত্রে অযাচিত হস্তক্ষেপ, হুমকি বা নানারকম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ইন্টারন্যাশনাল সিউজ সেফটি ইনস্টিটিউট (আইএনএসআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স মিডিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করে।

গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন জানায়, হয়রানির অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে কর্মক্ষেত্রে এবং কাজটি করেছে তাদেরই পুরুষ সহকর্মী, সুপারভাইজর এবং অধ:স্তনরা।

অর্ধেকেরও বেশি নারী সাংবাদিক বলেছেন, তারা এমনভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন যে, তার মানসিক প্রভাব পর্যন্ত পড়েছে। কিন্তু তারা একথা প্রকাশ করেননি। আইএনএসআই এর পরিচালক হান্নাহ স্টর্ম বলছিলেন, ‘আমরা যখন মিডিয়ার নিরাপত্তার কথা বলি, আমরা সাধারণত যুদ্ধ এলাকায়, গণ অসন্তোষ এবং পরিবেশগত বিপর্যস্ত  এলাকায় নিরাপদে থাকার কথাই চিন্তা করে থাকি, কিন্তু আমরা কি কখনও ভাবি যে, অফিসটাতে কতখানি বৈরি পরিবেশ বিরাজ করছে?

জরিপটাকে তিনি ‘গ্রাউন্ড ব্রেকিং’ উল্লেখ করে  বলেন, ‘এতে প্রমাণ হয়েছে যে নারী সাংবাদিকরা তাদের কর্মক্ষেত্রেও সমানভাবে ঝুঁকির মুখে, তারা তাদের সহকর্মীদেরই হয়রানির লক্ষ্যবস্তু এবং তারা যেহেতু যাদের বিশ্বাস করার কথা, তাদেরই হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাই বেশিরভাগ ঘটনাই থেকে যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে। ফলে ওই সহকর্মীরাও রয়ে যায় সমস্ত শাস্তির ঊর্ধ্বে’।

এ বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গবেষণাটি চালানো হয়। ৯৫৮ জন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে অংশগ্রহণ করে, এর মধ্যে ৮৭৫ জনই নারী।

একশরও বেশি সাংবাদিক বলেছেন, তারা শারীরিক সহিংসতারও শিকার হয়েছে, এর মধ্যে নির্যাতন যেমন আছে, তেমনি অস্ত্রের সাহায্যে হুমকিও দেয়া হয়েছে। পুলিশ এ ধরনের ঘটনার এক চতুর্থাংশ সাক্ষ্যপ্রমাণ দেখিয়েছে গবেষণার কাজে।

২৭৯ জন নারী সাংবাদিক বলেছেন, অফিসে তারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। বর্ণগত কটুক্তি, বয়সগত বিভিন্ন রকমের হয়রানি, যৌন সুড়সুড়িমূলক মন্তব্য, ধর্ম, রাজনৈতিক এবং ট্রেড ইউনিয়ন মেম্বারশিপ-এসবই হয়রানির একেকটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জরিপে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ক্ষমতা বা কর্তৃত্বের অপব্যবহার, মৌখিক, লিখিত বা শারীরিকভাবে হয়রানি, ব্যক্তিগত হুমকি এবং সম্মানহানির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। আর এসব নির্যাতন করছে যারা তাদের অধিকাংশই পুরুল, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ অথবা সাক্ষাতকার দাতা। ১৬০ জনেরও বেশি নারী সাংবাদিক বলেছেন, তাদের ব্যক্তিগত ই-মেইল হ্যাক করা হয়েছে বা এগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ২৬০ জনেরও বেশি বলেছেন, চাকরিদাতারা তাদের কোনরকম প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয় না, মানসিক সমর্থন বা কাউন্সেলিং কোনটাই করেন না হয়রানি বা সহিংসতার শিকার হলে।

জরিপটি প্রকাশিত হয়েছে জাতিসংঘের গ্লোবাল ফোরাম ফর মিডিয়া এন্ড জেন্ডার এ।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.