সংকট সমাধানে সমঝোতার আহ্বান খালেদার

Khaleda 6উইমেন চ্যাপ্টার: সংকট সমাধানে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। সোমবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সংকট সমাধানে সমঝোতার সব সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। উৎপীড়ণ, নির্মূলের পথ ছেড়ে সমঝোতার পথে আসার সুযোগ এখনো আছে।

পাশাপাশি তিনি নির্বাচন কমিশনসহ সবাইকে আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরতে আহবান জানিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে ‘দমননীতির পথ পরিহার করে’ সমঝোতার পথে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান খালেদা। তিনি ‘একতরফা’ নির্বাচনের তফসিল স্থগিত করার দাবিও জানান।

খালেদা জিয়া বলেন,“আমি সরকারকে বলব, যেভাবেই হোক আপনারা ক্ষমতার মসনদে আঁকড়ে রয়েছেন। উৎপীড়ন ও নির্মূল অভিযান ছেড়ে এখন সমঝোতার পথে আসুন। চক্রান্ত  ও অর্ন্তঘাতের পথ পরিহার শাস্তি ফিরিয়ে আনুন।

“কমিশনকে বলবো, প্রহসনের একতরফা নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে বিশেষ দলের ক্রীড়নক হিসেবে ব্যবহৃত না হয়ে ঘোষিত তফসিল স্থগিত করে দেশকে বাঁচান।”

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান রেখে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “জনগণের প্রতিপক্ষে অবস্থান নেবেন না। আমি প্রহসনের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জড়িত না হবার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”

বিরোধী দলীয় নেতার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে খালেদা জিয়া জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, “জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি কখনোই ব্যর্থ হয়নি। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত ও অতি নিকটবর্তী।”

চলমান সহিংসতার জন্য সরকারকে দায়ী করে খালেদা বলেন, “গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ধ্বংসাত্মক তৎপরতার প্যাটার্নের সঙ্গে আগেকার আওয়ামী সন্ত্রাস হুবহু মিলে যাওয়ায় সকলে কাছে পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে যে,  নৃশংস এসব প্রাণসংহার ও ধ্বংসযজ্ঞের মূল হোতা আওয়ামী সন্ত্রাসীরাই।”

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন,‘‘বিভিন্ন বন্ধুদেশ ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশের চলমান পরিস্থিতিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দেশবাসী প্রচণ্ড আতঙ্কিত। কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে এহেন ঘৃণ্য কার্যকলাপ ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি চলতে পারে না।

“অথচ সরকার সম্পূর্ণ নির্বিকার। তারা পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং এ নিয়ে সংকীর্ণ রাজনীতি ও প্রচার চালিয়ে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।”

সরকারের ‘দমননীতির’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় থেকে বিরোধী দলকে তাড়া করে ফিরছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছত্রছায়ায় দলীয় সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র অবস্থায় রাজপথে নামিয়ে আমাদের অফিস অবরুদ্ধ করে রেখে বিরোধী দলকে মাঠে নামার আহবান জানাচ্ছেন। আর দাবি করছেন, দেশে গণতন্ত্র  ও নির্বাচনের পরিবেশ রয়েছে, এটা কেউ মেনে নেবে না।”

বিবৃতিতে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন,“নাশকতার ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার বা শনাক্ত না করে সঙ্গে সঙ্গে বিনা তথ্য প্রমাণে বিরোধী দলের নেতাদের হুকুমের আসামি করে যেভাবে মামলা হচ্ছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে, মামলা দায়ের, নেতাদের গ্রেপ্তার, আন্দোলন দমন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এসব নৃশংস তৎপরতা চালানো হচ্ছে।”

গণমাধ্যমের ওপর সরকারের ‘হস্তক্ষেপের’ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সরকারের সমালোচনার দায়ে অনেকগুলো প্রাইভেট টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র রেখে রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম ও শাসকদলের সমর্থনপুষ্ট কিছু গণমাধ্যমকে দিয়েও আজ বিরোধী দলের বিরুদ্ধে একতরফা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে দেশে ভারসাম্যহীন এক অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।”বিবৃতির প্রথমে যাত্রীবাহী যানবাহনে বোমার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, “এসব বর্বর হামলা ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানের ভেতরে এসব নারকীয় হামলার ঘটনায় দেশবাসীর মতো আমিও প্রবলভাবে বিস্মিত। এমন বীভৎস ঘটনা ঘটিয়ে অপরাধীরা নিরাপদে পার পেয়ে যাওয়া এবং এ পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে একজনও গ্রেপ্তার না হওয়ার রহস্য কারও কাছে বোধ্যগম্য নয়।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “আমি বিরোধী দলের নেতা। অথচ গুলশানে আমার স্বাভাবিক কার্যক্রম পর্যন্ত পুলিশ ও গোয়েন্দাদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য তৎপরতার কারণে চলতে পারছে না। আমার বিশেষ সহকারিকে আটক রাখা হয়েছে। অন্যরাও স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না।”

বিবৃতি নয়া পল্টনের কার্যালয়ে ভোর রাতে পুলিশি অভিযানের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, “বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে এধরনের কর্মকাণ্ড একাত্তরের হানাদার বাহিনীর আক্রমণের কথা মনে করিয়ে দেয়।”

বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তার ও সালাহউদ্দিন্ আহমেদের বাড়িতে পুলিশি তল্লাশির সমালোচনা করে দলের চেয়ারপারসন বলেন, “সালাহউদ্দিন আহমেদ আত্মগোপনে থেকে দলের বক্তব্য নানা রকম ঘুরপথে প্রচারের জন্য এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দলের পক্ষে কথা বলার জন্য যাকেই দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে,তাকেই মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে।”

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.