সহিংসতা বাংলাদেশকে খাদের কিনারে নিয়ে যাচ্ছে

Navi Pillaiউইমেন চ্যাপ্টার: বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার নাভি পিল্লাই। বিবিসির এক খবরে একথা জানা গেছে।

গত সপ্তাহে যাত্রীবাহী বাসে মলোটভ ককটেল ছোঁড়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাত্রীদের পালানোর কোন সুযোগ না দিয়েই এই হামলা করা হয়েছে। এতে নারী, শিশুরা পর্যন্ত মারাত্মভাবে দগ্ধ হয়েছেন।

নাভি পিল্লাই বলেন, এই মাত্রার সহিংসতা বাংলাদেশের জনগণকেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ চান সবার অংশগ্রহণে একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।

বাংলাদেশের বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের গ্রেফতার ও আটকের ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাভি পিল্লাই। তিনি বলেন, এর ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে এবং প্রধান দলগুলোর মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নষ্ট করতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুই পক্ষের রাজনীতিকরাই যেভাবে ধ্বংসাত্মক এবং বিপদজনক রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন তা বাংলাদেশকে এক বড় ধরনের সংকটের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ যে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্ট বিষয়ক রোম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারি দেশ, সেকথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অন্য অনেক জায়গায় এ ধরণের রাজনৈতিক এবং নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা যারা ঘটিয়েছেন, তাদের কিন্তু বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ

এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রতিনিধি ক্যাথারিন অ্যাশটন বলেন, “ বাংলাদেশে হরতালের মাধ্যমে যে ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে এবং সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে তাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয় কর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনাও উদ্বেগজনক।”

গতকাল ব্রাসেলসে তাঁর অফিস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলায় হয়, বাংলাদেশে সবার অংশগ্রহণে একটা শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে হলে সহিংসতার অবসান এবং সংকটের একটা রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

বিবৃতিতে জনগণের ইচ্ছে প্রতিফলিত হবে এমন একটি নির্বাচন করার জন্য একটা গ্রহণযোগ্য ফর্মূলা খুঁজে বের করতে সব দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আরও সহিংসতায় উস্কানি যোগাতে পারে এমন যে কোন পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য ক্যাথারিন অ্যাশটন সব রাজনৈতিক নেতার প্রতি আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি জানান, বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০০৮ সালের মতো পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর কথা বিবেচনা করতে প্রস্তুত। কিন্তু এটি নির্ভর করবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.