নাশকতার আগুনে পুড়ছে পোশাক কারখানাও

Gazipur agunউইমেন চ্যাপ্টার: গাজীপুরের কোনাবাড়িতে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার পাঁচটি ভবনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।  দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, ১১ ঘণ্টার চেষ্টার পরও পুরোপুরি নেভাতে পারেননি তারা।

পুলিশ বলছে, শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাইকে লোক জড়ো করে জরুন এলাকায় কারখানা কমপ্লেক্সের পাঁচটি ভবনে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এসময় রপ্তানির জন্য মালবোঝাই সাতটিসহ ১৮টি কভার্ড ভ্যানও পুড়িয়ে দিয়েছে হামলাকারীরা।  কারখানা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার জন্য ‘বহিরাগত শ্রমিকদের’ দায়ী করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এ আগুন লাগে। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দমকল বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, পোশাক কারখানার একটি ১০ তলা ভবনের তিনতলায় আগুন লাগে। পরে তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পাশে কারখানার ছয়তলা আরেকটি ভবনেও আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর, টঙ্গী, সাভার ও সদর দপ্তরসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করছেন। হতাহতের খবর এখনো পাওয়া যায়নি। আগুনে ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ে গেছে।

অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর কর্মীরা বলছেন, পাশের ছয় তলা একটি ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক ও অন্যান্য সরঞ্জামের গুদামে আগুন লাগার পর অগ্নিকাণ্ড ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

গভীর রাতে আগুনের ভয়াবহতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর, টঙ্গী ও সাভার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সকাল পর্যন্ত কারও হতাহতের খবর তারা পাননি।

পুলিশ এই ঘটনাকে নাশকতা বলে বর্ণনা করেছে। রাত ১০টার দিকে নিরাপত্তারক্ষীদের পালাবদলের সময় আবারো কিছু ‘বহিরাগত শ্রমিক’ এসে স্ট্যান্ডার্ড কারখানার বাইরে থেকে ঢিল ছুড়তে শুরু করলে কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি দিয়ে দেয় বলে মহা ব্যবস্থাপক নূর ই আলম জানান।

এক পর্যায়ে পুলিশ এসে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এ সময় পুলিশের গুলিতে দুই শ্রমিক নিহতের গুজব ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দিয়ে কয়েক হাজার লোক জড়ো করা হয় স্ট্যান্ডার্ড কারখানার বাইরে। রাত ১২টার দিকে তারা কারখানা চত্বরে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং ভবনে আগুন দিয়ে সরে পড়ে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.