জুলিয়েন-নারী অধিকার আদায়ে যিনি সোচ্চার

Congo Womenউইমেন চ্যাপ্টার: ফিমেল সলিডারিটি ফর ইন্টেগ্রেটেড পিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর প্রেসিডেন্ট জুলিয়েন দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার এবং যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের সহায়তা দিয়ে আসছেন।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার ৪০টি নারী সংগঠনের একটি জোট হচ্ছে এই SOFEPADI।এর মূল কাজ হচ্ছে নারী অধিকার রক্ষা এবং আদায়, পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে সহায়তা দেওয়া। জুলিয়েন কঙ্গোতে যৌন সহিংসতা বন্ধে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই জোটের মাধ্যমে।

১৯৯৮ সালে আন্ত:গোষ্ঠীগত লড়াই যখন জুলিয়েনের দোরগোড়ায় এসে হানা দেয়, তখন আর তিনি দূরে সরে থাকতে পারেননি, হয়ে উঠেন আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী। যখন তিনি দেখতে পান সশস্ত্র লোকজন তাদেরই কমিউনিটির মেয়েদের ধর্ষণ করছে এবং পাশবিক অত্যাচার করছে, তিনি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেন।

প্রথমে তিনি এসব ঘটনা লিখে রাখতে শুরু করেন এবং সবার সামনে তুলে ধরে এর নিন্দা জানান। তিনি তার লেখায় এসব সশস্ত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন এবং দাবি তুলেন এই বলেন যে, যুদ্ধে নারীদের বিরুদ্ধে যে সহিংসতা চলছে, তা বন্ধ করতে হবে। তিনি তখন বলেছিলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যখন নিজেদের মধ্যে লড়াই করে বা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়, এর মাশুল গুণতে হয় নারীদের। চিৎকার করে তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘নারী দেহকে ওরা ব্যবহার করছে যুদ্ধের ময়দান হিসেবে এবং এর শেষ হওয়া উচিত’।

১৬ বছর ধরে চলমান সংকটের কারণে পুরো অঞ্চলই যেখানে বিধ্বস্ত, সেখানে নারীর পরিস্থিতি নরকতুল্য। জাতিগত দ্বন্দ্ব এখনও বিদ্যমান গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে, আর এর শিকার হচ্ছে কঙ্গোর নারীরা। তারা প্রতিনিয়ত যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, এমনকি পরিবারগুলোতেও তারা নানারকম সহিংসতার মুখে পড়ছেন। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কঙ্গোতে প্রতি ঘন্টায় ৪৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়। বিষয়টি আরও ভয়াবহ আকার নেয় যখন নিজের কমিউনিটির লোকজনই পুরো ঘটনাটি হয় চেপে যায়, নয়তো এসব ঘটনার শিকার নারীদের উপেক্ষা করে।

এসব দেখে জুলিয়েন এবং SOFEPADI যৌথভাবে এসব নারীদের সমাজে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং কমিউনিটির সাথে মিলেমিশে থাকার ব্যাপারে কাজ শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যেই পরিবর্তনটা উপলব্ধি করতে পারেন তিনি। দেখতে পান, কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপগুলো ক্ষতিগ্রস্ত নারীর পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছে, নারীরা যাতে জীবনের এই ভয়াবহতম অধ্যায়টি ভুলে থাকতে পারেন, সেই চেষ্টাও করছে, তাদেরকে আর দূরে ঠেলে দিচ্ছে না, মানিয়ে নিচ্ছে আগের মতোই, পাশাপাশি মানসিক সহায়তাও দিচ্ছে।

জুলিয়েন National Campaign of Congolese Women Against Sexual Violence এর সমন্বয়কের কাজ করছেন। সেইসাথে তিনি কঙ্গোলিজ উইমেন’স ফান্ডের পরিচালকও। কিন্তু এখানেই তিনি থেমে থাকেননি। তাঁর কাজ বিস্তৃত হয় সীমানার বাইরেও। তিনি International Campaign to Stop Rape & Gender Violence in Conflict এর অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য হন। নিজের কাজ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছেন জুলিয়েন। ২০১২ সালে ফরাসি দূতাবাস থেকে পেয়েছেন মানবাধিকার পুরস্কার। ২০১৩ সালে ফরাসি সরকার তাঁকে Knight of the Legion of Honour  নির্বাচিত করেছেন।

(নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে ১৬ দিনব্যাপী বিশ্বজুড়ে যে ক্যাম্পেইন চলছে, উইমেন চ্যাপ্টার তার সাথে একাত্ম। সেই লক্ষ্যেই ২৫ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন একজন একজন করে মহান নারীদের কীর্তি তুলে ধরতে চেষ্টা করে যাচ্ছে পোর্টালটি)।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.