শ্রীলংকার গৃহযুদ্ধ অবসানে অনন্য এক নাম ভিসাকা

Visaka-Sri Lanka
ভিসাকা ধর্মদাসা

উইমেন চ্যাপ্টার: যুদ্ধ-বিধ্বস্ত শ্রীলংকায় শান্তি স্থাপন এবং দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ অবসানে যাদের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, তাদের একজন ভিসাকা ধর্মাদাসা। তিনি দেশটির শক্তিশালী নারী নেত্রীদের একজন। তিনি এসোসিয়েশন অব ওয়ার এফেক্টেড উইমেন(AWAW)এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি।

কৈশোর থেকেই ভিসাকা ছিলেন একজন স্পষ্টবাদী, তার আশপাশে ঘটে যাওয়া সব অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে সারাজীবন তিনি লড়ে এসেছেন। একটু বড় হলেন যখন, তখন দেশজুড়ে শুরু হয় যুদ্ধ। এসময় তিনি জড়িয়ে পড়েন এই লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নারী এবং নিখোঁজদের পরিবারের সাথে। যুদ্ধ তাদের ওপর কি প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে কাজ করছিল কমিউনিটি সদস্যরা। ভিসাকাও তাদের সাথে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে গৃহযুদ্ধ অবসানে ভিসাকার অঙ্গীকার আরও দৃঢ় হয়। তাঁর ছেলে ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা। যুদ্ধে তিনি নিখোঁজ হলে যুদ্ধটা ঘরের দোরগোড়ায় চলে আসে এবং এসময় থেকেই তিনি জানতেন, তাঁর ফেরার পথ আর নেই। লড়াইটা তখন থেকেই বেশ জোরেশোরে শুরু করেন তিনি।

২০০০ সালে ভিসাকা প্যারেন্টস অব সার্ভিসম্যান মিসিং ইন অ্যাকশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংস্থা সৈন্যদের পাশাপাশি তরুণ এবং কমিউনিটি নেতাদের যুদ্ধের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আচরণের শিক্ষা দিতে শুরু করে। এটাও শেখায় যুদ্ধের সময় আইডি ব্যবহারের গুরুত্ব কতখানি। ভিসাকা শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে বেশকিছু নারীকে তার সাথে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে AWAW প্রায় দুই হাজার নারীকে একসাথে করতে সমর্থ হয়, যারা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কোন না কোনভাবে।

ভিসাকা তখন সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় শান্তি আলোচনা শুরু করেন। দেশের ভিতরে তিনি নিজেই পরিকল্পনা করেন এবং ট্র্যাক টু ডায়লগ প্রক্রিয়ার প্রবর্তন ঘটান, এতে ব্যাপক সায়ও পান তিনি সুশীল সমাজের মধ্য থেকে। প্রভাবশালী গণমান্য ব্যক্তিরা তখন এই আলোচনায় যোগ দেন।

ভিসাকার সাফল্যের ঝুড়িতে আরও এক বড় সাফল্য আছে। লিবারেশন টাইগারস অব তামিল ইলাম (এলটিটিই) এর সদস্যদের তিনি শান্তি আলোচনার টেবিলে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাদের এই যোগদানই একসময় যুদ্ধবিরতির পথে এগোতে সাহায্য করে। ভিসাকা শ্রীলংকায় নারী, শান্তি এবং নিরাপত্তা প্রশ্নে জাতিসংঘের প্রস্তাব ১৩২৫ এর ওপর জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

শান্তি স্থাপনে তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ভিসাকা ২০০৫ সালে সম্মিলিতভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। সেবছর তাঁর সাথে বিশ্বে শান্তি স্থাপনে কাজ করার জন্য এক হাজার নারীকে মনোনয়ন করা হয়েছিল। ২০০৬ সালে তিনি ওয়াশিংটনের ইন্টার অ্যাকশন থেকে সম্মানজনক হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড পান। এছাড়া তিনি সাউথ এশিয়া স্মল আর্মস নেটওয়ার্ক, উইমেন ওয়েজিং পিস এর একজন সদস্য এবং উইমেন থ্রাইভ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এর গ্লোবাল অ্যাডভাইসরি কাউন্সিলেরও সম্মানিত সদস্য।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.