মিশরে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে হানিয়া

উইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুরু হয়েছে ১৬ দিনব্যাপী ‘সহিংসতা নিরসনে ক্যাম্পেইন’। উইমেন চ্যাপ্টার এই কর্মসূচির সাথে একাত্মতা জানিয়ে প্রতিদিন একজন করে সংগ্রামী নারীকে তুলে ধরবে। আজ প্রথমদিন শুনুন মিশরের হানিয়া মোহিবের দুর্ধর্ষ জীবন কাহিনী।

Hania from Egypt
হানিয়া মোহিব, মিশর

হানিয়া মোহিব মিশরে সাংবাদিকতার পাশাপাশি ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি নিজেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে নৃশংসভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। আর এই অভিজ্ঞতাই তাকে এ ধরনের সহিংসতা নিরসনে পথে নামিয়েছে, স্পষ্টভাষায় এর প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে।

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে মিশর বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে হানিয়া তাহরির স্কয়ারের এক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন কয়েক লাখ মানুষের সাথে। হানিয়ার প্রতিবাদ ছিল রক্ষণশীল মুসলিম ব্রাদারহুডের দমন-পীড়ন এবং জেন্ডার-ভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাঁর শান্তির সপক্ষের প্রতিবাদ রূপ পায় সহিংসতায়। কিছু মানুষ তাকে ঘিরে ধরে এবং ভয়াবহ রকমের শারীরিক নির্যাতন চালায়। ওরা এমনভাবে হানিয়াকে ঘিরে ধরে যে, বাইরে থেকে কেউই ভিতরে ঢুকে তাকে সাহায্য করতে পারেনি। সেই রাতে তাহরির স্কয়ারে এরকম ১৯টি ঘটনার খবর পাওয়া যায়। হানিয়া প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল এবং তখনই তিনি অঙ্গীকার করেন যে, ন্যায়বিচারের জন্য শেষ দিনটি পর্যন্ত লড়ে যাবেন। শুধু নিজের জন্যই নয়, মিশরে জেন্ডার সহিংসতার শিকার সব নারীর জন্য লড়বেন তিনি, এমনই শপথ নেন।

মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরে ক্ষমতায় আসার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যৌন হয়রানির বিষয়টি নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক কোন আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারীদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হচ্ছিল একের পর এক। হামলার ধরন দেখে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছিল যে, এগুলো সবই পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে সোচ্চার নারীদের জন্য একধরনের আতংক ছড়ানোই ছিল এর মূল লক্ষ্য। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, দেশে যখন প্রায় প্রকাশ্যেই এসব ঘটনা ঘটছে তখন রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে শাসকগোষ্ঠীর সকলেই একেবারে মুখে কুলুপ এঁটে দিলেন। টু শব্দটিও করলো না কেউ।

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মিশরে স্পষ্টভাষী নারীদের বিপক্ষে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাওয়া সত্ত্বেও হানিয়া দেশের গভীরে প্রোথিত পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রাখলেন। তার ওপর হামলার ব্যাপারে তিনি আর চুপ থাকলেন না। মিশরের ন্যাশনাল টেলিভিষশনে গেলেন তার গল্প বলতে।

হানিয়া মিশরে গত দশকগুলোতে যে নারী আন্দোলন হয়েছে তারই আলোকে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট হন। দৃঢ় সংকল্পবোধ থেকে তিনি নিজের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠেন। হানিয়া এখন স্বপ্ন দেখের একটি সুন্দর মিশরের।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.