তেহেলকা সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের

উইমেন চ্যাপ্টার: তেহেলকা গোষ্ঠীর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে এফআইআর করেছে ভারতীয় পুলিশ। গোয়ার এক হোটেলে নিজের পত্রিকারই তরুণী সাংবাদিককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তেজপালের বিরুদ্ধে।

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিক্করের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, পুলিশকে আইন মেনে কাজ করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, তেহেলকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক সোমা চৌধুরী তেজপালের বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। চাপের মুখে আজ প্রথম এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন তেজপাল। নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে সোমা দেবীকেও।

গোয়ার হোটেলের ঘটনা নিয়ে সোমা চৌধুরীকে ওই তরুণী সাংবাদিকের লেখা ই-মেল ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। নিজের পদ ছেড়ে ছ’মাসের জন্য সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তেজপাল। সোমা চৌধুরীকে লেখা ই-মেলে তিনি জানান, অভিযোগকারিণীর কাছ থেকে আগেই ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু কেবল তাতে কাজ হবে না। তাই ছ’মাসের জন্য তেহেলকার সম্পাদক পদ ও অফিস থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই ই-মেলও ফাঁস হয়ে যায়।

তবে নিজে নিজেই সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষেপে উঠেছে মহিলা কমিশন-সহ বেশকিছু সংগঠন। তারা বলে দিয়েছেন, ‘তেজপাল ভগবান নন যে তিনি নিজের শাস্তি নিজে ঠিক করবেন’। যদিও তেহেলকা কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেশ কড়া শাস্তিই হয়েছে তেজপালের। এ অবস্থায় তাঁকে গ্রেফতার করার দাবি জানায় বিজেপি। তরুণী পুলিশে অভিযোগ না করলেও এই বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন গোয়ার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিক্কর।

আজ গোয়া পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্তের জন্য দিল্লিতে একটি দল পাঠিয়েছে। অন্য সূত্র থেকে তেজপাল, সোমাদেবী ও অভিযোগকারিণীর সব ই-মেলই পুলিশের হাতে এসেছে।
রাজ্যর কাছ থেকে এই ঘটনা নিয়ে একটি রিপোর্ট চেয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আর পি এন সিংহ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।”

এই পরিস্থিতিতে আজ একটি বিবৃতিতে তেজপাল বলেছেন, “আমার বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পেশা ও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রের অনেক পরিচিত ব্যক্তি জড়িত থাকায় যন্ত্রণা বেড়েছে। অনেক সময়েই সম্মানরক্ষা করতে গেলে প্রকৃত সত্য জানানো যায় না। গত চার দিন ধরে আমি সম্মানরক্ষার জন্য সোমা চৌধুরী ও অভিযোগকারিণীর দাবি মেনে কাজ করেছি।…..আমি পুলিশ ও অন্য তদন্তকারীদের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা করব। তাদের সব তথ্য জানাব। তেহেলকার তদন্ত কমিটি ও পুলিশকে আমার অনুরোধ হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হোক। তা হলেই প্রকৃত সত্য জানা যাবে।”

ওই তরুণী এখনও পুলিশের কাছে অভিযোগ করেননি। পুলিশ সূত্রে খবর, তারা প্রথমে তরুণীর সঙ্গে কথা বলবে। তেজপালকে জেরার জন্য ডাকা হতে পারে। আইনি মত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.