তেহেলকা সম্পাদকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

Tehelka Editorউইমেন চ্যাপ্টার: তেহেলকা ওয়েবসাইট এবং ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠার পর তিনি তার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন। ভারতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আর ‘স্টিং অপারেশনে’র পথিকৃৎ বলে ধরা হয় যে তেহেলকাকে।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মি. তেজপাল তার প্রতিষ্ঠানের একজন নারী কর্মীর সঙ্গে গোয়াতে অসদাচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদকের দায়িত্ব তিনি থেকে ছ’মাসের জন্য অব্যাহতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

কিন্তু তাঁর নিজের ঠিক করা এই শাস্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছেন ভারতের নারী আন্দোলনের নেত্রীরা, পাশাপাশি ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন ও গোয়ার রাজ্য সরকারও মি. তেজপালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে।

যৌন হয়রানির কথা প্রথম জানাজানি হয় গত বুধবার। তরুণ তেজপাল নিজেই তেহেলকার সব কর্মীকে ইমেইল করে জানান, সম্প্রতি একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় তিনি মোটেই বিচক্ষণতা দেখাননি, আর সেজন্য তিনি আগামী ছ’মাসের জন্য সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।

তবে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটা কী, সেটা তিনি ভেঙে বলেননি।

কিন্তু ঘটনাটা যার সঙ্গে ঘটেছিল, সেই নারী সাংবাদিকের ঘনিষ্ঠজনরা এর পরই ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোতে এসে জানিয়ে দেন – গোয়াতে তেহেলকারই বার্ষিক কনক্লেভের সময় ঘটনাটা ঘটেছিল, এবং দাবি করেন সেখানে ওই নারীকে মি. তেজপালের হাতে চরম যৌন নিগ্রহের শিকার হতে হয়।

এই অভিযোগ নিয়ে কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি, নির্যাতিতা নারীর পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।

গোটা ঘটনায় তরুণ তেজপাল নিজেই নিজের শাস্তি নির্ধারণ করায় ভারতের সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলোতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

মি. তেজপাল ভারতে অত্যন্ত ডাকসাইটে ও সুপরিচিত সাংবাদিক। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির নৈতিকতা ও সততার  পরিচয় তুলে ধরে বহু স্টোরি করেছেন। এখন নিজেই অনৈতিক একটা কাজে জড়িয়ে যাওয়ায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে। টুইটার, ফেসবুকে এ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।

অনেকেই বলেছেন, যিনি নিজে দোষ করেছেন – তিনিই ঠিক করছেন নিজের শাস্তি কী হবে, সেটা কেমন ব্যাপার?

জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন মমতা শর্মা নিজেও এরকমই একটা টুইট করেছেন।

মি. তেজপালের ইমেইলের পর তেহেলকা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন ব্যাপারটা মিটমাট হয়ে গেছে – কিন্তু নির্যাতিতা ওই নারী সাংবাদিক তার মুখপাত্র নারী আন্দোলনের একজন অগ্রণী নেত্রী কবিতা কৃষ্ণনের মারফত সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, মি তেজপাল যে শাস্তি বেছে নিয়েছেন কিংবা তেহেলকা কর্তৃপক্ষ গোটা ঘটনায় যে ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন তাতে তিনি মোটেই খুশি নন!

বিবিসি বলছে, গোয়া সরকারের ঘোষণাও গোটা বিতর্কে একটা ইন্টারেস্টিং মোড় এনে দিয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, তরুণ তেজপাল তার জনপ্রিয় স্টিং অপারেশনের কল্যাণে বিজেপি দলের তৎকালীন সভাপতি বঙ্গারু লক্ষ্মণকে ঘুষের টাকা নেওয়ার অভিযোগ ফাঁস করে দিয়েছিলেন। এতে করে চরম অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপির তখনকার সরকার।

এখন তারই প্রতিশোধ নিতে চায় গোয়া সরকার। তরুণ তেজপাল যখন বেকায়দায় – তখন গোয়ার বিজেপি-শাসিত রাজ্য সরকারও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তর নির্দেশ দিয়েছে।

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর বলেছেন, এই কথিত অপরাধটা যেহেতু গোয়াতেই ঘটেছে, তাই সেটা তদন্ত করার পূর্ণ এক্তিয়ার তার সরকারের আছে।

এর পাশাপাশি দিল্লিতে জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য নির্মলা সাওয়ান্ত – তিনিও বিবিসিকে জানিয়েছেন যে কমিশনে কোনও অভিযোগ জমা পড়ুক বা না-পড়ুক – তারাও স্বত:প্রণোদিতভাবে এই অভিযোগের তদন্ত করবেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.