উই লাভ ইউ, মালালা

Malala-glamourউইমেন চ্যাপ্টার: জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা পপ স্টার, কিংবদন্তী গায়ক, টিভি স্টার, সুপার মডেল এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর স্পনসরদের একজনও ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। এমনকি একজন সাবেক মন্ত্রীও ছিলেন, যিনি কিনা শিগগিরই দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারেন।

কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে গেল কিশোরী মালালা ইউসুফজাই। পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী।  গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে গ্ল্যামার উইমেন অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সবার নজর ছিল মালালার দিকে। কারণ, এবার যুক্তরাষ্ট্রের গ্ল্যামার সাময়িকীর বর্ষসেরা নারীদের একজন নির্বাচিত হয়েছে সে।

সেদিন এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা ১২ জন নারীর একজন হিসেবে মালালার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে গ্ল্যামার পত্রিকাটি মালালার নামে তহবিল সংগ্রহের প্রচারণা শুরু করলো। ওই তহবিল থেকে মেয়েদের শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হবে।

সেদিন রাতে যেসব বিখ্যাত নারীরা গ্ল্যামার উইমেন অ্যাওয়ার্ড নিতে হাজির হয়েছিলেন মঞ্চে, তাদের চেয়ে কোন অংশেই কম ছিল না কিশোরী মালালা। অথচ এক বছর আগেও যার নাম বিশ্বের কেউই শোনেনি। কার্নেগি হলে উপস্থিতদের মধ্যে ছিল অনেক তরুণীও। তারা সমস্বরে চিৎকার করে স্বাগত জানায় মালালাকে। বলে, ‘উই লাভ ইউ, মালালা’। আর মালালাও তাদের নিরাশ করেনি। শূন্যে চুমু ছুঁড়ে দিয়ে তাদের ভালবাসার প্রত্যুত্তর দেয় সে।

মাইক হাতে সে বলে, ‘আমি বিশ্বাস করি, বন্দুকের আসলে কোন শক্তিই নেই। বন্দুক শুধু মানুষই হত্যা করতে পারে। কিন্তু একটি কলম একজনকে জীবন দিতে পারে’। মালালার একথায় অনুষ্ঠানের পুরো পরিবেশই অন্যরকম হয়ে উঠে। একে একে সবাই মঞ্চে এসে মালালারই জয়গান গেয়ে যান। ভুলে যান নিজেদের কথা।

লেডি গাগা, যিনি কিনা স্বনামেই পরিচিত বিশ্বজুড়ে, তিনি বলেন, যদি পারতেন তার সবটুকু গ্ল্যামার কভারেজ তিনি মালালাকেই দিয়ে দিতেন। অনুষ্ঠানের পর ডিনারে গাগা নিজেই এগিয়ে আসেন মালালার সাথে ছবি তুলতে। তিনি তখন মালালাকে বলেন, ‘মনে যে সত্যটা ধারণ করো, তা বলতে কখনও ভয় পেও না’।

সুপারমডেল ইমান বলেন, তিনি মালালার বক্তব্য শুনে রীতিমতো মুগ্ধ। মালালাকে তিনি ‘ গেইম-চেঞ্জার ফর গার্লস’ বলে উল্লেখ করেন। এখনতার তরুণ প্রজন্মকে মালালাকে বেশি জানবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.