ফিলিপাইনে দুর্গতদের ত্রাণের জন্য হাহাকার

Phillipinesউইমেন চ্যাপ্টার: ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড় হাইয়ান আঘাত হানার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছানোর কারণে সেখানকার অবস্থা এখন ‘বর্ণনাতীত’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন সেখানকার ত্রাণকর্মীরা।

ঝড়ে বেঁচে যাওয়া লাখো মানুষ এখন ত্রাণ সাহায্য পাওয়ার আশায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্তদের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে।

বিবিসি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি সাহায্য টাকলোবান বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। এদিকে ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি চলছে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ।

টাকলোবান শহর থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী টাকলোবান বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে। ফিলিপাইনের সরকারও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পল কেনেডি বিবিসির রেডিও ফাইভকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গতদের সাহায্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সহায়তা নিয়ে দেশটির পাশে রয়েছে।

টাকলোবান শহর কর্তৃপক্ষ বলছেন, শত শত মানুষ অভুক্ত। তারা বিমানবন্দরের দিকে ছুটছে ত্রাণ সহায়তার আশায়। লাইন ধরে তারা অপেক্ষা করছে।

সেখানে ত্রাণবাহী বিমান নেমেছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় লোকবল ও যানবাহনের অভাবে ত্রাণ বিতরণে সমস্যা হচ্ছে। এবং ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কিছু এলাকাতেও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে না যথাযথ সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায়।

ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ফিলিপাইনে দুর্গতদের মাঝে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সহযোগিতা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়াসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে।

এদিকে ত্রাণকাজ পৌঁছানোর পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মৃতদের সমাহিত করতে শুরু করেছে। তবে রাস্তায় রাস্তায় এখনো পড়ে আছে মৃতদেহ।

টাকলোবান শহর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দু হাজার ৩০০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে এ সংখ্যা বাড়তে পারে।

জাতিসংঘের আশঙ্কা, টাইফুন হাইয়ানের তাণ্ডবে সোয়া এক কোটিরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.