তুর্কি নারীরা সংসদে পায়জামা পরতে পারবেন

Turkey Pijamaউইমেন চ্যাপ্টার: এখন থেকে তুরস্কে নারী সাংসদরা পাজামা পরে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির সরকার। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বুধবার রাতে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দেশটির পার্লামেন্টে পাস হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা দেশের নারীদের পোশাকের ওপর ধর্মীয় বিধিনিষেধ শিথিল করার ব্যাপারে আরও একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

সংস্থাটি জানায়, তুরস্কে ইসলামী রীতি অনুযায়ী নারী সাংসদদের মাথায় স্কার্ফ (ওড়না) পরার ওপর বহুদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিছুদিন আগে তা তুলে নেওয়া হয়।

পার্লামেন্টে স্কার্ফ নিয়ে যখন বিতর্ক চলছিল, সে সময় প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) সদস্য সাফাক প্যাভে নারীদের পাজামার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ধর্মনিরপেক্ষ ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র তুরস্কে মাথায় স্কার্ফ দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনমত গড়ে উঠছিল।

প্যাভে ২০১১ সালে তুরস্কের সাংসদ নির্বাচিত হন। তাঁর একটি পা না থাকায় তিনি কৃত্রিম পা ব্যবহার করতেন। তুরস্কের সংসদের বিধি ছিল, নারী সাংসদদের স্কার্ট ও কোট পরে আসতে হবে। প্যাভে তাঁর কৃত্রিম পা ঢাকার জন্য পাজামা পরে আসার অনুমতি চান। কিন্তু পার্লামেন্ট তাঁর আবেদন বাতিল করে দেয়।

ইসলামপন্থী মধ্য-ডানপন্থী এ কে (জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) পার্টির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তাইয়্যেপ এরদোয়ান সংসদে পাজামা বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব দেন এবং ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দল সিএইচপি, কুর্দি-সমর্থিত বিডিপি ও তুরস্কের জাতীয়তাবাদী দল ওই প্রস্তাবে সমর্থন জানায়।

এ কে পার্টির মতে, স্কার্ফের ওপর নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।

গত অক্টোবরের শেষ দিকে তুরস্কের পার্লামেন্টে একটি ঐতিহাসিক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেদিন রাজনৈতিক দল এ কে পার্টির চারজন নারী সদস্য মাথায় স্কার্ফ পরে প্রথমবারের মতো সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন।

পার্লামেন্ট ছাড়াও তুরস্কের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও মাথায় স্কার্ফ পরার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

(প্রথম আলো থেকে নেয়া)

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.