মালালা হবে বাংলাদেশের ফাতিমা

উইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক (জন ৩): অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিচালক খুঁজে পেলেন আফগানিস্তানের মালালা সদৃশ বাংলাদেশের ফাতিমাকে। ‘গুল মাকাই’ চলচ্চিত্রে পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ঢাকার বাসিন্দা ফাতিমা শেখকে নির্বাচন করেছেন চলচ্চিত্রনির্মাতা আমজাদ খান।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, মালালার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রায় দেড় মাস আগে ফাতিমাকে খুঁজে পান আমজাদ খান। কিন্তু কিছু আইনী জটিলতার কারণে এতোদিন তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছিল। লুক টেস্ট ও স্ক্রিনিং টেস্টের সময়েও ফাতিমার পরিচয় জানানো হয়নি।

 

আমজাদ খান জানান, প্রধানত দুটি কারণে তা গোপন রাখা হয়েছিল। প্রথমত, মালালার চরিত্রে ফাতিমা অভিনয়ের ব্যাপারে একেবারেই রাজি ছিলেন না তার বাবা-মা। দ্বিতীয়ত, ফাতিমা এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়ে কাজ করার (ওয়ার্ক পারমিট) জন্য আদৌ অনুমতি পাবে কি না, তা-ও নিশ্চিত ছিল না। ফাতিমা শেখ বাংলাদেশের নাগরিক। তাই ভারতে গিয়ে মালালার চরিত্রে অভিনয় করার জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। মাত্র ১০ দিন আগে সেই অনুমতি পেয়েছে ফাতিমা।
সব ঝামেলা শেষে মালালার চরিত্রে ফাতিমার অভিনয় করা এখন নিশ্চিত। চলচ্চিত্রনির্মাতা আমজাদ খান জানান, চলচ্চিত্রের দ্বিতীয় অংশের শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফাতিমার চেহারা দেখানো যাবে না, এই শর্তে রাজি হন তার মা-বাবা। শুধু ফাতিমার কাজের অনুমতি নয়, শুটিংয়ের অনুমতির জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছেও ছোটাছুটি করতে হয়েছে আমজাদ খানকে। ইসলামাবাদ ও করাচিতে শুটিংয়ের অনুমতি পেতে তিন মাস সময় লেগেছে বলে জানান তিনি। শুটিংয়ের জন্য আগামী নভেম্বর মাসে পাকিস্তানে যাবেন আমজাদ খান।

 

তিনি জানান, কাজটি কঠিন এ কারণেই যে, এখানে তালেবান গোষ্ঠীর কিছু কর্মকাণ্ড শুটিং করতে হবে। কীভাবে তালেবানরা নতুনদের প্রশিক্ষণ দেয়, তা-ও শুটিং করতে হবে। এ কাজটা আসলেই কঠিন। মধ্যপ্রদেশেও চলচ্চিত্রের শুটিং হবে। ২ জুন থেকে শুটিং শুরুর কথা থাকলেও, পরে তা পিছিয়ে যায়।
ফাতিমার বয়স খুবই অল্প। বেশ কিছুদিন ফাতিমাকে শুটিং সেটে রাখার কথা ভাবছেন আমজাদ খান, যাতে সে সবার সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পারে এবং সহজভাবে মিশতে পারে।
গত বছরের ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাই পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় বিদ্যালয়ের বাসে করে বাড়ি ফিরছিল। পথে সেই বাসে উঠে তার মাথায় গুলি করে তালেবান জঙ্গিরা। তালেবানের বিপক্ষে কথা বলা ও সোয়াতে নারীশিক্ষার পক্ষে কাজ করায় মালালার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল তালেবানরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে পাকিস্তানে ও পরে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়ে বার্মিংহামের এজবাস্টনে বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আবার লেখাপড়া করছে মালালা। বর্তমানে ব্রিটেনেই থাকছে মালালা।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.