বিদায়, আকবর আলী বিশ্বাস

Freedom fighterউইমেন চ্যাপ্টার: একজন মুক্তিযোদ্ধা চলে গেলেন। বড় অবহেলায়। যাওয়ার আগে জানতেও পারলেন না, এইদেশেরই কিছু তরুণ ছেলে তাঁকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই সুযোগ তিনি নিলেন না, দিলেনও না। ছেলেগুলো কাঁদছে আজ তাদের ব্যর্থতায়, এটাই কি বড় পাওনা নয়? ওরা জানালো, যে শহীদ মিনারে কেউ মারা গেলেই সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জাতীয়ভাবে জানাজার ব্যবস্থা করে, সেই শহীদ মিনারেই ওরা কজন নিজেদের মতোন করে মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী বিশ্বাসের জানাজা সেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে যাবে। নিজেরাই দাফনের ব্যবস্থা করবে।

…১২টার কিছু পরে খবরটা শুনে মনে তীব্র একটা ক্ষোভ দেখা দিল। শুধু বললাম, ভালই হয়েছে, সমস্ত কষ্টের ঊর্ধ্বে তিনি চলে গেছেন। শুধু কষ্ট হচ্ছে ছেলেগুলোর কথা ভেবে। অনেক আশা নিয়ে ওরা তাঁকে নিয়ে এসেছিল ঢাকায়। এর আগে উনি পড়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালের মেঝেতে বিনা চিকিৎসায়। পাশেও কেউ ছিল না।

দেশ এগিয়ে চলেছে, দেশ পালন করছে স্বাধীনতার ৪২ বছর, সম্মাননা দিচ্ছে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থনকারী দেশি-বিদেশি সব লোকজনকে। কিন্তু দেশের জন্য জানবাজি রেখে লড়েছিলেন যারা, সেই মানুষগুলোর অধিকাংশই ধুঁকে ধুঁকে জীবন কাটিয়েছেন, কাটাচ্ছেন, অনেকে চলেও গেছেন।

সেই চলে যাওয়া অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার সহযাত্রী হলেন আরও একজন মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী। মৃত্যুর মুখ থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে এসেছিল কিছু উদ্যোগী তরুণ। ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে ওরা নিজেদের মধ্য থেকেই যতোটুকু সম্ভব টাকাকড়ি তুলে চেষ্টা করেছিল শেষবারের মতোন হলেও ঋণ শোধ করতে। কিন্তু হায়! সেই সুযোগ না দিয়েই উনি আজ বৃহস্পতিবার চলে গেলেন। আর ঋণী করে গেলেন আমাদের মতোন কিছু অসহায় মানুষকে, যারা কিছু করতে চাই, অথচ সামর্থ্যের কাছে বার বার হার মানি।

গতকাল সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আনার পর থেকে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে আইসিইউতে ভর্তি করানোর। ঠাঁই হয়নি, কোথাও নাকি আইসিইউ খালি নেই। অবশেষে বাধ্য হয়ে রাতটা কোনরকমে পার করতে তাকে রাখা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৩ নং ওয়ার্ডে। সকাল থেকে আবারও চেষ্টা চালানো হচ্ছিল কোথাও যদি একটু জায়গা মেলে! এমন সময়ই আসে খবরটা।

সময় থাকতে তার পাশে আমরা কেউ দাঁড়াইনি, দাঁড়াতে পারিনি, এই কষ্ট কুড়ে কুড়ে খাবে অনেককেই।

এমন কি হওয়ার কথা ছিল আকবর আলী? গোটা দেশটাই না আপনার পরিবার হওয়ার কথা ছিল? এই বিশ্বাস নিয়েই তো লড়েছিলেন একাত্তরে।

যেখানে গেছেন, সেখানে যেন তিনি একটু শান্তি পান। স্যালুট আকবর আলী।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.