আসুন, তাঁর শান্তিতে মৃত্যু নিশ্চিত করি

Freedom fighterউইমেন চ্যাপ্টার: দেশ এগিয়ে চলেছে, দেশ পালন করছে স্বাধীনতার ৪২ বছর, সম্মাননা দিচ্ছে একাত্তরে আমাদের পাশে দাঁড়ানো দেশি-বিদেশি সব লোকজনকে। কিন্তু দেশের জন্য জানবাজি রেখে লড়েছিলেন যারা, সেই মানুষগুলোর অধিকাংশই ধুঁকে ধুঁকে জীবন কাটিয়েছেন, কাটাচ্ছেন, অনেকে চলেও গেছেন।

সেই চলে যাওয়া অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার সহযাত্রী হতে যাচ্ছেন আরও একজন মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী। মৃত্যুর মুখ থেকে তাঁকে আপাতত তুলে নিয়ে এসেছেন কিছু উদ্যোগী তরুণ। কিন্তু হায়! দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধার জায়গা কোথায়! কোথাও কোন আইসিউতে তাঁর ঠাঁই হলো না। অবশেষে বাধ্য হয়ে রাতটা কোনরকমে পার করতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের ডিফাম হাসপাতালে। খরচ বেশি জেনেও একটু ঝুঁকি নিয়েই ওরা এই কাজটি করেছে।

আমরা নিশ্চিত যে, মৃত্যুর পর মনে প্রচণ্ড অপরাধবোধ নিয়ে সবুজ-লাল পতাকায় মুড়িয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলীকে সম্মান জানাবে এ জাতি। অনেক হা-হুতাশ হবে। বলা হবে, সময় থাকতে তার পাশে আমরা দাঁড়াইনি, দেইনি প্রাপ্য মর্যাদাটুকু। বড়জোর তাঁর কোন ছেলে বা নিকটাত্মীয়কে একটা চাকরির আশ্বাস দেওয়া হবে। শেষপর্যন্ত হবে কিনা তা নিয়েও যথেষ্টই সংশয়।

কিন্তু জীবোন্মৃত আকবর আলীকে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে কোথাও, কোন আইসিইউতে ভর্তি করানো যায়নি। কোথাও ঠাঁই নেই। হয়তো জায়গা ঠিকই আছে ভিআইপিদের জন্য, নিতান্ত দরিদ্র আকবর আলীর তো সেখানে স্থান হওয়ার কথা নয়। মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তো কী হয়েছে? দেশ স্বাধীন করেছেন বলে কি তাঁকে এতো সুযোগ দিতে হবে? তাঁর শরীরে যে মাটির গন্ধ, দামি পারফিউম তো নেই। তাই দেশের উন্নত চিকিৎসা আপাতত তাঁর জন্য নেই।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কিছু তরুণ নিজ উদ্যোগে তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি হাসপাতালের মেঝে থেকে উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে এসেছে। গত তিনদিনে তাঁর কপালে সেখানে একটাও ঔষধ জুটেনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি বলে ডাক্তার তার চিকিৎসাও শুরু করতে পারেনি। পরিবারের কোন সদস্য তাঁর পাশে নেই।

এমন কি হওয়ার কথা ছিল আকবর আলী? গোটা দেশটাই না আপনার পরিবার হওয়ার কথা ছিল? এই বিশ্বাস নিয়েই তো লড়েছিলেন একাত্তরে।

তাঁর পুরো নাম মো: আকবর আলী বিশ্বাস। আজ আর তিনি একা নন। অন্তত এই রাতে তাঁর পাশে আছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর ৪২বছর পার করেছেন গ্রামের পথে পথে। এই ৪২বছরে তাঁর একবারও ঘরে ফেরা হয়নি।

কিন্তু উনি যদি একটু সময় দেন, তরুণরা তাঁর ঋণ শোধ করতে আজ বদ্ধপরিকর। তাঁর পাশে দাঁড়ানোর খোলা আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আসুন একবার জীবিত আকবর আলীকে স্যালুট করে আসি।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.