৫৫ দিন ধরে নির্যাতনের শিকার এক স্কুলছাত্রী

উইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক (জুন ৩): কীই বা এমন বয়স! ১১ বছর। সবে ক্লাস সিক্সে পড়তে শুরু করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়েছিল গাজীপুরের টঙ্গীর এই মেধাবী ছাত্রীটি। এর স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয় এমপি জাহিদ হাসান রাসেল তাকে পুরস্কৃতও করেছিলেন।

 

কিন্তু কে জানতো এর কিছুদিন পরই তার ওপর নেমে আসবে জীবনের সবচেয়ে বড় অন্ধকার সময়টি! ওর তো এখনও নিজেকে মেয়ে বলে আলাদা কিছু বোধ হতেই শুরু করেনি। গোল্লাছুট আর বউছির দিনগুলি হঠাৎ করেই ওলট-পালট হয়ে গেল।

 

গত ৬ এপ্রিল ওর জীবনটা পরিবর্তিত হয়ে যায়। ওকে ধরে নিয়ে যায় একদল সন্ত্রাসী। ধর্মটা হিন্দু বলে তাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করে লোক দেখানো বিয়েও করে ওদেরই একজন। তারপর শুরু হয় তথাকথিত বৈধ স্ত্রীর ওপর অকথ্য নির্যাতন। ১১ বছরের বালিকা, যে কিনা এখনও কৈশোরেই পৌঁছায়নি, সে বুঝে গেছে নারীজন্মের ভয়াবহতার দিকগুলো।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ এপ্রিল বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহৃত হয় সে। পরে তাকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে কথিত বিয়ের নামে চক্রটির এক সদস্য তাকে আটকে রেখে ৫৫ দিন ধরে ধর্ষণ করে। অবশেষে দুই মাস পর গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী গ্রাম থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী থানা পুলিশ।

 

উদ্ধারের পর থানায় সাংবাদিকদের কাছে এই বর্বর কাহিনী শোনায় ছাত্রীটি। এ সময় টঙ্গী থানা পুলিশের সঙ্গে আসা ছাত্রীটির মা-বাবা উপস্থিত ছিলেন। তবে অপহরণকারীদের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য মতে, এই অপহরণ ঘটনায় জড়িত ছিল চকরিয়া ও মহেশখালী উপজেলার ছয় মাদক ব্যবসায়ীর একটি চক্র।
ছাত্রীটি শুক্রবার রাতে চকরিয়া থানায় সাংবাদিকদের জানায়, তার কাছে হিন্দু ধর্মই এখনো শ্রেষ্ঠ ধর্ম। অপহরণকারীরা কোনো কাগজে স্বাক্ষর না নিয়েই পাঞ্জাবি পরা এক মোল্লা ডেকে এনে কলেমা পড়িয়ে আয়েশা বেগম নাম দেয়। যদিও কলেমা কী জিনিস এর কিছুই বুঝতে পারেনি শিশুটি। তৎক্ষণাৎ তাকে অপহরণকারী দলের এক সদস্য মানিকের সঙ্গে পাতানো বিয়ে দেওয়া হয়। ছাত্রীটির অভিযোগ, ৬ এপ্রিল অপহরণের পর ৭ এপ্রিল থেকেই তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেছে মানিক। এ ছাড়া অপহরণকারীদের আরো কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে।
অপহৃত শিশুটির মা জানান, তাঁর ১১ বছর বয়সী শিশুকন্যাটি টঙ্গীর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এ প্লাস পেয়ে পাস করার পর ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয় একই এলাকায়।

 

এদিকে এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সবাই এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অচিরেই দোষীদের খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। আগামী ৩০ জুন ফেসবুকভিত্তিক একটি সংগঠন প্রতিবাদ সভার আয়োজনও করেছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.