‘আই অ্যাম মালালা’ পাকিস্তানে নিষিদ্ধ

Malala 11 Novউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী কিশোরী মালালা ইউসুফজাইয়ের আত্মজীবনীমূলক বই ‘আই অ্যাম মালালা’ খোদ নিজ দেশের বেসরকারি স্কুলগুলোতেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মালালাকে পশ্চিমাদের ক্রীড়নক উল্রেখ করে এই বইটি পাঠ্যতালিকা থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

দেশের  দেড় লক্ষাধিক বেসরকারি স্কুলের প্রতিনিধিত্বকারী অল পাকিস্তান প্রাইভেট স্কুলস ফেডারেশন রোববার এই সিদ্ধান্ত নেয়।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘আই এম মালালা’ বইটি পড়লে শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ বইয়ে মালালা ইসলামের প্রতি পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল নয় বলে প্রকাশ পেয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাই স্কুলের পাঠ্যসূচিতে এ বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বা স্কুলের লাইব্রেরিতেও এটি রাখা হবে না।

এদিকে সরকার এ বইয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করলেও সরকারি স্কুলের পাঠ্যসূচিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা করেনি। ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মির্জা কাশিফ বলেছেন, ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বইটি পর্যালোচনার কথা ভাবা হয়েছিল। এরপর আমরা সেটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, এটা আমাদের শিশু, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী নয়।

তিনি বলেন, পাকিস্তান একটি আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র। এর আদর্শ হচ্ছে ইসলাম। এ বইটিতে অনেক ধরনের বক্তব্য রয়েছে, যা আমাদের মূল্যবোধের পরিপন্থী।

কাশিফ বলেন, পাকিস্তানের আড়াই লাখ শিক্ষার্থী বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। মালালা বাক-স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে সালমান রুশদির পক্ষ নিয়েছে। এ ছাড়া নবী করিম সা.-এর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ‘সা.’এর ভুল ব্যাখ্যা করেছে।

তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এ বইয়ের বেশির ভাগই মালালা নিজে লেখেনি। কারণ এতে এমন অনেক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে যখন মালালার জন্মই হয়নি।

অল পাকিস্তান প্রাইভেট স্কুলস ম্যানেজমেন্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আদিব জাভেদানি বলেছেন, তার গ্রুপ ৪০ হাজার স্কুলের লাইব্রেরি থেকে বইটি নিষিদ্ধ করেছে। তার মতে, মালালা পশ্চিমাদের প্রতিনিধিত্ব করছে, পাকিস্তানকে নয়।

বর্তমানে ব্রিটেনে অবস্থানরত মালালার লেখা এই বইটি সম্প্রতি সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। মালালার সঙ্গে যৌথভাবে বইটির রচনায় সহযোগিতা করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ানা ল্যাম্বে। বইটি বের হওয়ার পর পরই তালেবানরা হুমকি দিয়ে বলেছিল, যে দোকানে এ বই রাখা হবে তারা সেখানিই হামলা চালাবে।

গতবছর পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তালেবান জঙ্গিরা গুলি চালায় মালালার ওপর। এর পরপই বিশ্বের নজর কাড়ে মালালা। তার সুস্থতায় বিশ্বজুড়ে প্রার্থনা করা হয়। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। সুস্থ হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখানেই সে অবস্থান করছে। মানবাধিকার রক্ষায় আন্দোলনের জন্য সম্প্রতি ইউরোপের সবচেয়ে সম্মানজনক শাখারভ পুরস্কার দেওয়া হয় তাকে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.