‘সুইটি’কে যৌন নিপীড়কদের তালিকায় ৪ বাংলাদেশি!

Sweety
অ্যানিমেটেড সুইটি

উইমেন চ্যাপ্টার: অনলাইনে ‘সুইটি’ নামের একটি কাল্পনিক শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নের তালিকায় চার বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা হয়ছে। বিশ্বের প্রায় এক হাজার নিপীড়কের মতোন এই বাংলাদেশিরাও শিশুটিকে অনলাইনে খোলামেলা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এবং তার সাথে যৌনকাজের প্রস্তাব দিয়েছিল।

অনলাইনে বর্তমানে শিশুদের ওপর বন্ধের উদ্দেশ্যে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক দাতব্য সংস্থা টেরে ডেস হোমসের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংস্থাটি ১০ সপ্তাহের অনুসন্ধানে বিশ্বব্যাপী ১ হাজার যৌন নিপীড়ককে চিহ্নিত করে যারা অর্থের বিনিময়ে ওয়েবক্যামের মাধ্যমে সুইটির সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করে।

বিবিসি অনলাইনে এই তথ্যটি প্রকাশের পরপর শিশু অধিকার কর্মীদের কপালে ভাঁজ পড়ে যায়। অনুসন্ধানকারীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, “টেরে ডেস হোম্‌স” নামক এক শিশু অধিকার সংস্থা এক নতুন কৌশলে এই অনুসন্ধান চালিয়েছে। তারা একটি অনলাইন ‘চ্যাট রুমে’ ‘সুইটি’ নামের একটি শিশুর নাম দিয়ে ভুয়া আইডি খোলেন। তাতে মেয়েটিকে ফিলিপাইনের মেয়ে বলে দেখানো হয়। মাত্র কয়েকদিনের মাথায় মেয়েটির সাথে অনলাইনে যোগাযোগ করে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ৭১ দেশের ২০ হাজার লোক সুইটির সঙ্গে যৌন আলাপচারিতার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই মেয়েটিকে ওয়েবক্যামের সামনে খোলামেলা হওয়ার জন্য টাকার প্রস্তাবও দিয়েছে।

ফলাফল দেখে আশ্চর্য হন অনুসন্ধানকারীরা।

একজন অনুসন্ধানকারী শিশুদের এমন কাজে জড়িত হওয়ার নেপথ্যে ভয় দেখানো বা জোর করার কোন বিষয় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আসল ভয়টা হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বহুসংখ্যক মেয়েশিশু ইন্টারনেটের সুবিধা পাচ্ছে। আর তার থেকে বাবা-মা এবং অপরাধীরা টাকা আয় করার ধান্দা করছে।

অনলাইনে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়া শিশু যৌনপীড়ন সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ওই নিপীড়কদের চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে এক ‘আন্ডারকাভার অপারেশনে’ নেমেছিল সংস্থাটি। এদের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে ওয়েবক্যামের দিয়ে সুইটির সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করেন ১ হাজার লোক। ওই এক হাজার যৌনপীড়কের মধ্যেই আছেন চার বাংলাদেশি নাগরিক।

বিশেষ ওই প্রকল্পের পরিচালক হানস গুট জানান, তারা ওই যৌনপীড়কদের কম্পিউটার হ্যাক না করে বরং অনলাইনে সুইটির সঙ্গে আলাপচারিতার সময় তাদের দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি এবং ওয়েবক্যামের ভিডিও কাজে লাগিয়ে গুগল, ফেইসবুকের মতো বিভিন্ন সূত্র ব্যবহার করে তাদের আসল পরিচয়, ফোন নম্বর এবং ঠিকানা নিশ্চিত করেছেন।

জাতিসংঘ এবং এফবিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী দিনের যে কোনো সময় কম করেও হলেও সাড়ে সাত লাখ শিশু যৌনপীড়কের উপস্থিতি থাকে অনলাইনে। এই নিপীড়কদের বেশিরভাগই ধনী দেশের নাগরিক; আর এদের সম্ভাব্য শিকার শিশুদের সিংহভাগের আবাসস্থল ফিলিপাইনসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোয়।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের সঙ্গে ওয়েবক্যাম দিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে আগ্রহী যৌন শিকারিরা প্রায়শই নকল নাম এবং মালিককে চিহ্নিত করা সম্ভব নয় এমন প্রিপেইড ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে থাকে।

কোন দেশের কতজন যৌনপীড়ক সুইটির সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌনতায় লিপ্ত হয়ে চেয়েছিলেন, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে টেরে ডেস হোমস। ওই তালিকায় ১১০ জনব্রিটিশ, ২৫৪ আমেরিকান, ১০৩ ভারতীয়, ২০ পাকিস্তানি এবং সৌদি আরব ও ইরানের ১০ জন করে রয়েছেন। সংখ্যাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করলেও ওই যৌন শিকারিদের বিস্তারিত তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেনি দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি, বরং সব তথ্য ৪ নভেম্বর ইন্টারপোলের হাতে তুলে দিয়েছে তারা।

“আমরা গুটিকয় মানুষ আর একটি কাল্পনিক চরিত্র মিলে কেবল দুমাসে যদি এক হাজার শিশুপীড়ক শনাক্ত করতে পারি তবে পুলিশ চাইলে বছরে লাখ লাখ এমন অপরাধীকে ধরা সম্ভব”– বলা হয়েছে সংস্থাটির তৈরি ভিডিওচিত্রে।

জাতিসংঘের কল্যাণে ‘ওয়েবক্যাম চাইল্ড সেক্স টুরিজ্যম’ বিশ্বের প্রায় সবজায়গায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যথাযথ আইনি প্রয়োগ এবং বিচারের মাধ্যমেই এই ‘মহামারী’ ঠেকানো সম্ভব হবে, এমন আশা প্রকাশ করছে শিশু অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ে কর্মরত নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এই সংস্থা।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.