পরিবহন ধর্মঘটে নাকাল সাধারণ মানুষ

bus-strikeউইমেন চ্যাপ্টার: সকাল নয়টায় সীমন্তির পৌঁছানোর কথা মোহাম্মদপুর থেকে কাকরাইল। সময়ের হিসাবে শুক্রবারের পথ খুব সামান্যই। তাই আটটায় বের হওয়া। কিন্তু বেরিয়ে অটোরিকশার খোঁজ মেলে না, যাও এক-দুইটা আসে, তারা চায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বাসা থেকে বলে দেওয়া হয়েছে ১২০ টাকা থেকে দেড়শ টাকা হবে ভাড়া। সময় গড়িয়ে যায়, অবশেষে ২০০ টাকায় রফা হয় একজন চালকের সাথে। গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে দেড় ঘন্টা। স্বভাবতই ক্লাসে ‘লেইট’।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, হরতালের ফেরে পড়ে আজ জিএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, সেইসাথে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। হরতালকারী দেশে ভাগ্যনিয়ন্তা বিরোধী দল বা পরিবহন মালিক-শ্রমিক কেউই দেশের ছোট্ট শিশুদের কথা মাথায় রাখে না। প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়েন অভিভাবক আর সাধারণ মানুষগুলো। সবাই জিম্মি হয়ে আছেন দেশের রাজনীতির কাছে।

সকালে রাজধানীর রাস্তায় দু’একটা বাস চলাচল করলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাদের সংখ্যা কমে আসে। রাস্তায় প্রচুর মানুষ, কেউ পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন, কেউ বা ভেঙ্গে ভেঙ্গে রিকশায় রওনা হয়েছেন গন্তব্যে। মোড়ে মোড়ে সাধারণ যাত্রীদের জটলা দেখা গেছে। দু একটি খালি বাস দেখলেই যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে ওঠতে গেলেও বাসগুলো যাত্রী না নিয়েই চলে যায়। রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পোর সংখ্যাও আজ  তুলানামূলক কম। যারা আছে, তাদের ‘ডিমান্ড’ সাধারণের নাগালের বাইরে।

আওয়ামী লীগ নেতা পরিবহন ব্যবসায়ী খায়রুল আলম মোল্লা (৪৭) হত্যার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার রাজধানীতে পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। একারণেই দুর্ভোগ সাধারণ যাত্রীদের।

রাজধানীর মতিঝিলে সমবায় ব্যাংক ভবনে গতকাল সন্ধ্যায় খায়রুল আলম মোল্লাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনালের টোল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

এর প্রতিবাদে গতকাল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।

জানা গেল, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীতে কোনো বাস চলবে না। একই সময়ে সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যাবে না। এ ছাড়া বেলা দুইটা পর্যন্ত গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

এর ফলে সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-মাওয়া রুটের সব বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালে বেলা দুইটা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দেশের উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ রুটের বাসগুলো দুপুর দুইটার পর থেকে চলাচল শুরু হবে।

তিন দিনের হরতাল শেষে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল শুরুর একদিনের মাথায় এই ধর্মঘট আহ্বানের ফলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনালগুলোর সামনে পরিবহন শ্রমিকদের লাঠিহাতে অবস্থান দেখা যায়। অন্যদিকে বাস না পেয়ে ভিড় করে ছিল সাধারণ মানুষ।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে ৬ নম্বর রুটের একটি বাস গুলশান থেকে মহাখালীতে পৌঁছলেই ধর্মঘটকারীরা এর ওপর চড়াও হয়। বাস বের করায় তারা চালককে লাঠি দিয়ে বেদম পেটায়।

কোনো টার্মিনাল না থাকলেও মোহাম্মদপুরে লাঠি হাতে পরিবহন শ্রমিকদের অবস্থান দেখা যায়। তারা কোনো বাস চলতে দিচ্ছে না।

ধর্মঘটীরা বাসের পাশাপাশি টেম্পু-লেগুনা চলতেও বাধা দিচ্ছে। তবে সিএনজি অটোরিকশা চলছে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.