সান্ত্বনার জয় নিয়ে ফিরছে নিউজিল্যান্ড

170287উইমেন চ্যাপ্টার: চার সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে আসা নিউজিল্যান্ড দল অবশেষে একটি জয়ের মুখ দেখতে পেয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে ১৫ রানে জয় পেয়েছে স্বাগতিকদের বিপক্ষে। তবে এটাও খুব একটা সহজসাধ্য ছিল না কিইউদের জন্য।

সিরিজ ড্র এবং তিন তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরে যাওয়ায় নিজদেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল নিউজিল্যান্ড দল। দেশটির পত্রিকাগুলোর নিউজই বলে দিচ্ছিল, ক্রিকেটমোদীরা কী তীব্র ভাষায় সমালোচনা করছিল এই পরাজয়গুলোকে। শেষতক একটা জয় পেয়ে সান্ত্বনা কিছুটা হলেও মিলছে কিইউদের। এ নিয়েই এখন দেশে ফিরবে সফরকারীরা।

বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ২০৪ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৯ উইকেটে ১৮৯ রান করে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। এর আগে গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ১৯০ রান করে মুশফিকুর রহিমের দল।

শেষের দিককার উইকেটগুলো না পড়লে খেলার ফলাফল উল্টে যেতেও সময় লাগতো না, সেই আশাও দেখা দিচ্ছিল মাঝে মাঝেই।

বিশাল রান তাড়া করতে নেমে প্রথমদিকেই তিনটি উইকেট হারিয়ে খেলা হাতের নাগালেই চলে গিয়েছিল। তবে শুরু থেকেই ভীষণ আক্রমণাত্মক ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। টিম সাউদির করা প্রথম ওভারে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের বিদায়ে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি।

পরের ওভারেই মুমিনুল হকের বিদায় বাংলাদেশের ওপর চাপ আরো বাড়ায়। তবে মুশফিকুর রহিম ও নাঈম ইসলামের পাল্টা আক্রমণ খেলায় ফেরায় স্বাগতিকদের। আশার সঞ্চার করে দেয় মাঝপথে এসে। টিম সাউদির দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে বিদায় নেন নাঈম (১০ বলে ১৮)। ক্রিজে আসে নাসির হোসেন। প্রথস ছয় বলের চারটিকেই বাউন্ডারিতে পরিণত করা নাসিরের সঙ্গে মুশফিকের ৪৮ রানের ৫৪ রানের জুটি কক্ষপথেই রাখে বাংলাদেশকে।

ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো অর্ধশতকে পৌঁছেই মুশফিকের বিদায় বড় একটা খায় বাংলাদেশ। অধিনায়কের ২৯ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ১টি ছক্কা। পরের ওভারের শেষ বলে নাসিরের (২০ বলে ২৮) বিদায় দলের বিপদ আরো বাড়ায়। এরপরও আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সোহাগ গাজী। সপ্তম উইকেটে তাদের ৫৭ রানের চমৎকার জুটি অস্বস্তিতে ফেলে দেয় অতিথিদের।

তবে তিন বলের মধ্যে সোহাগ (১৫ বলে ২৩) ও মাহমুদুল্লাহর (২৫ বলে ৩৪) বিদায়ের পর আর পেরে উঠেনি বাংলাদেশ। ১৮৯ রানেই আটকে যায় বাংলাদেশের গতি। তবে সাহসের সাথে এবং তুমুল লড়াই করেই হেরেছে বাংলাদেশ।

এর আগে সর্বোচ্চ ইনিংসের নতুন রেকর্ড গড়েছে নিউজিল্যান্ড। অ্যানটন ডেভচিচ ও কলিন মুনরোর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে কিউই স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে ২০৪ রান। ডেভচিচ করেছেন ৩১ বলে ৫৯ রান। ৩৯ বলে ৭৩ রান করে শেষপর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন মুনরো।

খেলাশেষে প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিক বলেছেন, ‘আমরা ১৫-২০ রান এক্সট্রা দিয়েছে। যেকারণে শেষেরদিকে খেলাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। উইকেট হারাতে থাকলে প্রতি ওভারে ১০ রান করা সত্যিই কঠিন। আমরা শুরুতেই উইকেট হারিয়ে ফেলি এবং এটিই আমাদের গতি কমিয়ে দেয়। নিউজিল্যান্ড ভাল খেলেছে প্রকৃতপক্ষেই এবং আমরা সেভাবে বলও করিনি বা করতে পারিনি’। তবে তিনি মাঠভর্তি দর্শকদের ধন্যবাদ জানান সমর্থনের জন্য এবং বলেন, ‘জানুয়ারিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলা আছে। সেখানে ভালকিছু দেখাতে পারবো বলে আশা করছি’।

খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.