ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনের ফাঁসি

pilkhanaউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: পিলখানা হত্যাকাণ্ডের রায়ে তৎকালীন ডিএডি তৌহিদসহ মোট ১৫২ জন আসামীর ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।

বাকীদের মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন ১৫৯ জন এবং বেকসুর খালাস পেয়েছেন ২৭১ জন। এছাড়াও দুই শতাধিক আসামীকে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন পেয়েছেন বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসিরুদ্দিন পিন্টু এবং আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড নেতা তোরাব আলী।

মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৩৩ মিনিটে ঢাকার বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে বহু আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা শুরু করেন। রায় পড়া শুরু করার আগে আদালত শুরু করতে দেরি হওয়ার কারণে ক্ষমা চেয়ে নেন বিচারক আখতারুজ্জামান।

রায় ঘোষণার সময় বিডিআর এর হত্যাকাণ্ডের জন্য অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কেই দায়ী করেন। বিচারক বলেন, অপারেশন ডালভাতের মত অর্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিডিআরকে জড়ানো ঠিক হয়নি। বিচারক আরও উল্লেখ করেন বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মোটিভও থাকতে পারে।

এ সময় বিচারক গোয়েন্দা দুর্বলতাকেও দায়ী করেন।

রায় ঘোষণার মাঝে খালাস প্রাপ্তদের আনন্দ প্রকাশের কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে কিছুক্ষণ আদালত কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিজস্ব আইনে সম্পন্ন হয়েছে। এবং ৭৩ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যা, লুণ্ঠনসহ অন্য অভিযোগের বিচার হচ্ছে প্রচলিত আইনে।

নাসির উদ্দিন পিন্টুকে রাজনৈতিক কারণে আসামি করা হয়েছে বলে ওইদিন অভিযোগ করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। তবে রাষ্ট্রপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তা নাকচ করে দিয়ে বলেছে, তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলেই তাকে আসামি করা হয়েছে।

বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারকাজ ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি শুরু হয় বিচারক জহুরুল হকের অধীনে। বর্তমানে তার স্থলে বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিচারকাজ সম্পন্ন করেন

মামলায় মন্ত্রী, সংসদসদস্য, সাবেক ও বর্তমান সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা, পুলিশের সাবেক ও বর্তমান আইজি, বেসামরিক ব্যক্তিসহ এ মামলার এক হাজার ৩৪৫ জন সাক্ষী ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৬৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে জবানবন্দি গ্রহণ শেষ করা হয়।

এ দুইটি মামলায় ২০জন আসামি পলাতক রয়েছে। বিচার কার্যক্রম চলার সময়ে ডিএডি রহিমসহ চার আসামির মৃত্যু হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ৭০ জন নিহত হন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.